শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৪

মানুষের উপর জ্বিনের আছর: কারণ, প্রতিকার ও সুরক্ষার উপায়

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম

মুসলমানগন জ্বিন এর অস্তিত্বে বিশ্বাসী। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরানের বহু জায়গায় জ্বিনের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আখেরি নবী হুজুর সাঃ এর পবিত্র জবান থেকেও জ্বিন বিষয়ক অনেক হাদিস পাওয়া যায়। জ্বিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা ­­­­মুসলিম নরনারীর ঈমানের অংশ হয়ে আছে।


মহান আল্লাহ্ তা’য়ালার পরিচয়

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম


আল-কুরআন ও আল-হাদীছে আল্লাহ্ পাক রাববুল আলামীনের সত্তা, গুণাবলী, কুদরাত ও অধিকার সম্পর্কে অনেক কথা ছড়িয়ে আছে। সেই কথাগুলোর নিরিখে অতি সংক্ষেপে মহান আল্লাহ তায়ালার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।




আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিন, সৌরজগৎ, আত্মার জগৎ, বেহেশত-দোযজ, ফেরেশতা, জীন-ইনসানসহ গোটা মাখলুকাত অর্থাৎ জীবজন্তু, জড়বস্তু এবং সকল কিছুই সৃষ্টি করেছেন। এক কথায় বলা যায় গোটা আকাশ ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের । তিনি সমস্ত জীবের ভাগ্যর নিয়ন্ত্রক। তিনি সকল জীবের পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। আল্লাহ তায়ালা শেষ দিবসের বিচারক এবং মানুষের ভাল মন্দের প্রতিফল দিবেন। অপরিসীম বরকতময় আল্লাহ তায়ালা সমগ্র জাহানের মালিক ও প্রতিপালক । আল্লাহ তায়ালা কোন শরীক নেই। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী ও আকাশের রাজত্বেও মালিক , আল্লাহ তায়ালা কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি, আল্লাহ তায়ালার সাথে রাজত্বে কেউ শরীক নেই। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন তারপর তার একটি তাকদীর নির্ধারিত করে দিয়েছেন।  আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টি সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত। মাটি বা পানির অতল তলদেশে একটি পাথরের মধ্যে এমন একটি প্রাণী বাস করে, যা যন্ত্র ব্যতীত মানুষের চোখে পড়বে না। সেই প্রাণী সম্পর্কেও মহান আল্লাহ তায়ালা অমনোযোগী নন। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই মহান আল্লাহ তায়ালার আয়ত্বে রয়েছেন । অদৃশ্য জগতে কোথায় কি পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর ও জীব জগতের কি অবস্থা হবে ,এই বিষয় জানার কোনো মাধ্যম মানুষের কাছে নেই,কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কাছে এসব বিষয় গোপন নেই এবং তিনি তাঁর মহাশক্তিবলে এসব পরিবতন ঘটান এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতি তিনি স্বয়ং নিয়ন্ত্রণ করেন। কারণ এসব কিছুর ওপরে তাঁর বিধান কার্যকর রয়েছে। মানুষের মন-মস্তিষ্ক কখন কি চিন্তা পরিকল্পনা করে মনের গহীনে কখন কোন মুহুতে কি কল্পনা ও আশার উদ্রেক হয় তা জানার মতো কোন যন্ত্র আবিষ্কার করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে মানুষের মনে জগৎ তথা চিন্তার জগৎ সম্পর্কে অজ্ঞাত নয়।

সৃষ্টি কাজে মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কারো বিন্দুমাত্র অংশ ছিল না। সুতরাং মানুষের দেহ একজন সৃষ্টি করলো আর আরেকজন তার চিন্তার জগৎ বা মনের জগৎ সৃষ্টি করলো বিষয়টি এমন নয়। মানুষের দেহ ও মন মস্তিষ্ক তথা চিন্তার জগৎ সেই একজনই সৃষ্টি করেছেন যাঁর নাম আল্লাহ রাব্বুল আল্লামীন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, শুধু আমরা মানব সম্প্রদায় নয়, গোটা পৃথিবী ও তার সবকিছুর স্রষ্টাও তিনি। সেই মহান আল্লাহ তায়ালা, তার সৃষ্টির কথা মহা গ্রন্থ কুরআনে বলেছেন, তিনি জানিয়েছেন, “তিনি এক এবং অদ্বিতীয় তিনি ছাড়া কোন মাবূদ নাই

আল্লাহ্ তায়ালা এক, অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ তায়ালা আববা নেই, আম্মা নেই। আল্লাহ্ তায়ালা স্ত্রী নেই, পুত্র নেই, কন্যা নেই। আল্লাহ্ তায়ালা তখনো ছিলেন যখন আর কেউ ছিলো না, আর কিছুই ছিলো না। আল্লাহ্ তায়ালা তখনো থাকবেন যখন আর কেউ থাকবে না, আর কিছুই থাকবে না। অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা চিরকাল ছিলেন, চিরকাল আছেন, চিরকাল থাকবেন। আল্লাহ্ তায়ালা ধ্বংসের ঊর্ধ্বে। আল্লাহ্ তায়ালা ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। আল্লাহ্ তায়ালার ক্ষুধা নেই, পিপাসা নেই। আল্লাহ্ তায়ালা কিছু খান না। আল্লাহ্ তায়ালা কিছু পান করেন না। আল্লাহ্ তায়ালার তন্দ্রা নেই, নিদ্রা নেই। আল্লাহ্ তায়ালা অন্যমনস্ক হন না। আল্লাহ্ তায়ালা কিছু ভুলে যান না। আল্লাহ্ তায়ালাকে কোন সৃষ্টি দেখতে পায় না। কিন্তু সকল কিছু আল্লাহ্ তায়ালার দৃষ্টির অধীন। আল্লাহ্ তায়ালার দৃষ্টির বাইরে কোন কিছুই থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ্ তায়ালা সব কিছুই শুনেন। মহাবিশ্বের সর্বত্র উচ্চারিত প্রতিটি কথা ও উত্থিত প্রতিটি আওয়াজ আল্লাহ্ তায়ালা শুনতে পান। আল্লাহ্ তায়ালা সম্রাট। মহাবিশ্ব আল্লাহ্ তায়ালার সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের মালিকানায় ও পরিচালনায় আল্লাহ্ তায়ালার কোন অংশীদার নেই। আল্লাহ্ তায়ালা কারো মুখাপেক্ষী নন।

প্রতিটি প্রাণী ও বস্তু  টিকে থাকার জন্য আল্লাহ্ তায়ালার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ্ তায়ালা সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। মহাবিশ্বের সর্বত্র আল্লাহ্ তায়ালা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ্ তায়ালা মহাজ্ঞানী। আল্লাহ্ তায়ালার জ্ঞান সীমাহীন। আল্লাহ্ তায়ালা সর্ব শক্তিমান। আল্লাহ্ তায়ালা শক্তি সীমাহীন। আল্লাহ্ তায়ালা সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ্ তায়ালা সৃষ্টি-ক্ষমতার শেষ নেই। আল্লাহ্ তায়ালা জীবন দেন। আল্লাহ্ তায়ালা মৃত্যু দেন। আল্লাহ্ তায়ালা জীবিত থেকে মৃতকে এবং মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন। আল্লাহ্ তায়ালার অনুমতি ছাড়া কারো ওপর বিপদ-মুছীবাত আসতে পারে না। আল্লাহ্ তায়ালার ক্ষমতা অ-প্রতিরোধ্য। আল্লাহ্ তায়ালা যদি কারো কল্যাণ করতে চান তাতে বাধ সাধবার শক্তি কারো নেই। আল্লাহ্ তায়ালা যদি কারো

আদেশ-নিষেধের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র তাঁর। আল্লাহ্ তায়ালার বিধানই চূড়ান্ত আইন। আল্লাহ্ তায়ালা যা করেন তার জন্য কারো কাছে জওয়াবদিহি করতে হয় না। অন্য সবাইকে আল্লাহ্ তায়ালার নিকট জওয়াবদিহি করতে হয়। আল্লাহ্ তায়ালা প্রথমে আসমান ও পৃথিবীকে যুক্ত অবস্থায় সৃষ্টি করেন, পরে এইগুলোকে পৃথক করে দেন। আল্লাহ্ তায়ালা সময়ের ছয়টি অধ্যায়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে আরশে সমাসীন হয়েছেন। আল্লাহ্ তায়ালা মহাবিশ্বকে সাতটি স্তর বা অঞ্চলে বিন্যস্ত করেছেন। আল্লাহ্ তায়ালার নির্দেশেই আসমান ও পৃথিবী সু-প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

পরিশেষে বলতে পারি যে পৃথিবীর সবগুলো গাছ দিয়ে যদি কলম বানানো হয়, সমুদ্রগুলোর পানির সাথে আরো সাত সমুদ্রের পানি মিলিয়ে যদি কালি বানানো হয়, তবুও আল্লাহ্ তায়ালার কথা লিখে শেষ করা যাবে না।
আল্লাহ্ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ।
সকল প্রশংসার মালিক এক আল্লাহ্ পাক।




বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

সূরা ইয়াছিনের ফযিলত

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম


১ তাফসীরে রুহুল বয়ানে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে যে, সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে তার সকল মকসুদ হাসিল হইবে। তাফসীরে (কামালাইন)

২ তিরমিযী শরীফে হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেন, প্রতিটি জিনিসের একটি কলব আছে। কোরানের কলব হইল সূরা ইয়াসীন।

৩ হযরত আলী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, উহা আমল এবং ব্যবহার কর। কেননা, উহাতে রহিয়াছে দশটি নিয়ামত। যথাঃ

# এই সূরা পাঠ করিলে ক্ষুধা ধূরীভূত হয়।
# এই সূরা পাঠ করিলে পিপাসা দূর হয়।
# যাহার পরিধেয় বস্র নেই, তাহার বস্রের ব্যবস্থা হয়।
# বিবাহ হইতে যাহার বিলম্ব হয়, তাহার বিবাহের ব্যবস্থা হয়।
# ভয় এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি পাঠ করলে ভয় এবং বিপদ হইতে রক্ষা পাবে।
# কোন ব্যক্তি কারাগারে আটকা পড়িলে অতি শীঘ্রই মুক্তি পাবে।
# মুসাফির ব্যক্তি পাঠ করলে সফরে বন্ধু মিলিয়া যায়।
# কোন কিছু হারিয়ে গেলে ঐ জিনিস ফিরিয়া পাওয়া যায়।
# মুমূষ লোকের পাশে পাঠ করলে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু কষ্ট লাঘব হয়।
# রোগান্তর ব্যক্তি পাঠ করলে উক্ত ব্যক্তি আরোগ্য লাভ হয়।

যখন যা বলতে হবে

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম


১ কোন কিছু আরাম্ভ করার পূর্বে------------- বিসমিল্লাহ্।
২ কোন কিছু করার উদ্দেশ্যে--------------ইনশাল্লাহ।
৩ কোন বিশ্বময়কর ভাল বিষয় দেখে-------- সুবাহানাল্লাহ।
৪ কষ্টে এবং যন্তনায়-----------------ইয়া-আল্লাহ্।
৫ প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ--------------- মাশাআল্লাহ্।
৬ ধন্যবাদ ঞ্জাপনে------------------যাজাকাল্লাহ্।
৭ ঘুম থেকে জাগ্রত হবার পর--------লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ্।
৮ শপথ নেয়ার পর--------------ওয়াল্লাহি বিল্লাহ্।
৯ হাঁচি দেয়ার পর--------------- আলহামদুল্লিল্লাহ্।
১০ অন্য কেউ হাঁচি দিলে---------- ইয়ার হামুকাল্লাহ্।
১১ জিঞ্জাসার জবাবে-------------- আলহামদুল্লিল্লাহ্।
১২ পাপের অনুশোচনায়-------------আস্তাগফিরুল্লাহ্।
১৩ পরোপকার করার সময়--------- ফি-সাবিলিল্লাহ্।
১৪ কাউকে ভালবাসলে------------ লিহুবিবল্লাহ্।
১৫ বিবাহ করার সময়-------------- আমানতুবিল্লাহ্।
১৬ বিদায়ের সময়------------------ফিআমানিল্লাহ্।
১৭ সমস্যা দেখা দিলে-------------- তাওয়াক্কালতু আহল্লাহ্।
১৮ অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে-----------নওযুবিল্লাহ্।
১৯ আনন্দদায়ক কিছু ঘটলে----------ফাতাবারাকাল্লাহ্।
২০ প্রাথনায় অংশগ্রহন শেষে---------আমিন।
২১ মৃত্যুর সংবাদ শুনলে------------- ইন্নালিল্লাহি-ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মহান আল্লাহ তা'য়ালার ৯৯ টি নাম

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

মহান আল্লাহ্ পাকের মহা পবিত্র ৯৯ নাম ও নামের অর্থঃ

 

১ الله ------------- আল্লাহ----------------- আল্লাহ
الرحمن --------আর-রহ'মান-----------পরম দয়ালু
الرحيم -------- আর-রহী'ম ------------অতিশয়-মেহেরবান
الملك ----------আল-মালিক----------- সর্বকর্তৃত্বময়
القدوس -------আল-ক্বুদ্দুস------------ নিষ্কলুষ, অতি পবিত্র
السلام ------- আস-সালাম ------------ নিরাপত্তা-দানকারী, শান্তি-দানকারী
المؤمن-------- আল-মু'মিন ---------- নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী
المهيمن ------আল-মুহাইমিন ------- পরিপূর্ন রক্ষণাবেক্ষণকারী
العزيز ----------আল-আ'জীজ --------- পরাক্রমশালী, অপরাজেয়
১০ الجبار --------- আল-জাব্বার----------- দুর্নিবার
১১ المتكبر-------- আল-মুতাকাব্বিইর------ নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
১২ الخالق -------- আল-খ'লিক্ব ---------- সৃষ্টিকর্তা
১৩ البارئ ---------আল- বারী ------------সঠিকভাবে সৃষ্টিকারী
১৪ المصور --------আল-মুছউইর ----------আকৃতি-দানকারী
১৫ الغفار --------- আল-গফ্ফার ---------- পরম ক্ষমাশীল
১৬ القهار ---------আল-ক্বহার -------------কঠোর
১৭ الوهاب -------আল-ওয়াহ্হাব ----------সবকিছু দানকারী
১৮ الرزاق --------আর-রজ্জাক্ব ------------রিযকদাতা
১৯ الفتاح --------আল ফাত্তাহ ------------বিজয়দানকারী
২০ العليم --------আল-আ'লীম ---------- সর্বজ্ঞ
২১ القابض ------ আল-ক্ববিদ্ব' ----------- সংকীর্ণকারী
২২ الباسط -------আল-বাসিত ------------প্রশস্থকারী
২৩ الرافع ---------আর-রফীই'------------ উন্নতকারী
২৪ المعز ----------আল-মুই'জ্ব ------------সন্মান-দানকারী
২৫ المذل ---------আল-মুদ্বি'ল্লু ------------বেইজ্জতকারী
২৬ السميع-------- আস্-সামিই'----------- সর্বশ্রোতা
২৭ البصير ----------আল-বাছীর ------------সর্ববিষয়-দর্শনকারী
২৮ الحكم ----------- আল-হা'কাম -------- অটল বিচারক
২৯ العدل ------------আল-আ'দল ----------পরিপূর্ণ-ন্যায়বিচারক
৩০ اللطيف -----------আল-লাতীফ ---------সকল-গোপন-বিষয়ে-অবগত
৩১ الخبير ------------আল-খ'বীর ----------- সকল ব্যাপারে জ্ঞাত
৩২ الحليم -----------আল-হা'লীম -----------অত্যন্ত ধৈর্যশীল
৩৩ العظيم ----------আল-আ'জীম -----------সর্বোচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৪ الغفور ------------আল-গফুর ------------পরম ক্ষমাশীল
৩৫ الشكور ----------আশ্-শাকুর ------------গুনগ্রাহী
৩৬ العلي ------------আল-আ'লিইউ ---------উচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৭ الكبير ------------আল-কাবিইর-------------- সুমহান
৩৮ الحفيظ -----------আল-হা'ফীজ----------- সংরক্ষণকারী
৩৯ المقيت -----------আল-মুক্বীত ----------সকলের জীবনোপকরণ-দানকারী
৪০ الحسيب ----------আল-হাসীব -------------হিসাব-গ্রহণকারী
৪১ الجليل ---------আল-জালীল-----------পরম মর্যাদার অধিকারী
৪২ الكريم -----------আল-কারীম-------------সুমহান দাতা
৪৩ الرقيب ------------আর-রক্বীব-------------তত্ত্বাবধায়ক
৪৪ المجيب --------------আল-মুজীব -------------জবাব-দানকারী, কবুলকারী
৪৫ الواسع --------------আল-ওয়াসি' --------সর্ব-ব্যাপী, সর্বত্র-বিরাজমান
৪৬ الحكيم -------------আল-হাকীম -----------পরম-প্রজ্ঞাময়
৪৭ الودود -------------আল-ওয়াদুদ-------------(বান্দাদের প্রতি) সদয়
৪৮ المجيد ------------আল-মাজীদ------------ সকল-মর্যাদার-অধিকারী
৪৯ الباعث -------------আল-বাই''-------------- পুনুরুজ্জীবিতকারী
৫০ الشهيد ------------আশ্-শাহীদ-------------------সর্বজ্ঞ-স্বাক্ষী
৫১ الحق ---------------আল-হা'ক্ব ---------------পরম সত্য
৫২ الوكيل---------- আল-ওয়াকিল --------------পরম নির্ভরযোগ্য কর্ম-সম্পাদনকারী
৫৩ القوي --------------আল-ক্বউইউ ----------পরম-শক্তির-অধিকারী
৫৪ المتين -------------আল-মাতীন ----------------সুদৃঢ়
৫৫ الولي ----------------আল-ওয়ালিইউ-------------------অভিভাবক ও সাহায্যকারী
৫৬ الحميد ------------আল-হা'মীদ -------------সকল প্রশংসার অধিকারী
৫৭ المحصي ----------আল-মুহছী----------------সকল সৃষ্টির ব্যপারে অবগত
৫৮ المبدئ ------------আল-মুব্দি' --------------প্রথমবার-সৃষ্টিকর্তা
৫৯ المعيد ----------------আল-মুঈ'দ -----------পুনরায়-সৃষ্টিকর্তা
৬০ المحيي --------------আল-মুহ'য়ী -----------জীবন-দানকারী
৬১ المميت ---------------আল-মুমীত -------------মৃত্যু-দানকারী
৬২ الحي ------------------আল-হাইয়্যু-----------------চিরঞ্জীব
৬৩ القيوم ------------আল-ক্বাইয়্যুম --------------সমস্তকিছুর ধারক ও সংরক্ষণকারী
৬৪ الواجد ----------------আল-ওয়াজিদ---------- অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী
৬৫ الماجد --------------আল-মাজিদ----------------শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
৬৬ الواحد ----------------আল-ওয়াহি'দ----------------এক ও অদ্বিতীয়
৬৭ الاحد ----------------আল-আহাদ ----------------একক
৬৮ الصمد ---------------আছ্-ছমাদ ----------------অমুখাপেক্ষী
৬৯ القادر ----------------আল-ক্বদির ----------------সর্বশক্তিমান
৭০ المقتدر -----------আল-মুক্ব্তাদির ----------------নিরঙ্কুশ-সিদ্বান্তের-অধিকারী
৭১ المقدم ------------আল-মুক্বদ্দিম ----------------অগ্রসরকারী
৭২ المؤخر -------------আল-মুয়াক্খির ----------------অবকাশ দানকারী
৭৩ الأول -------------আল-আউয়াল ----------------অনাদি
৭৪ الأخر ----------------আল-আখির ----------------অনন্ত, সর্বশেষ
৭৫ الظاهر ------------আজ-জ'হির ----------------সম্পূর্নরূপে-প্রকাশিত
৭৬ الباطن -------------আল-বাত্বিন ----------------দৃষ্টি হতে অদৃশ্য
৭৭ الوالي ----------------আল-ওয়ালি ----------------সমস্ত-কিছুর-অনিভাব্ক
৭৮ المتعالي --------------আল-মুতাআ'লি ----------------সৃষ্টির গুনাবলীর উর্দ্ধে
৭৯ البر ----------------আল-বার্ ----------------পরম-উপকারী, অনুগ্রহশীল
৮০ التواب --------আত্-তাওয়াব ----------------তাওবার তাওফিক দানকারী এবং কবুলকারী
৮১ المنتقم --------------আল-মুনতাক্বিম ----------------প্রতিশোধ-গ্রহণকারী
৮২ العفو ------------আল-আ'ফঊ ----------------পরম-উদার
৮৩ الرؤوف ---------------আর-রউফ ----------------পরম-স্নেহশীল
৮৪ مالك الملك ------------মালিকুল-মুলক----------------সমগ্র জগতের বাদশাহ্
৮৫ ذو الجلال والإكرام----------যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম -----------মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা
৮৬ المقسط ----------আল-মুক্ব্সিত ----------------হকদারের হক-আদায়কারী
৮৭ الجامع -----------আল-জামিই'----------------একত্রকারী, সমবেতকারী
৮৮ الغني -----------আল-গণিই'----------------অমুখাপেক্ষী ধনী
৮৯ المغني ------------আল-মুগনিই'----------------পরম-অভাবমোচনকারী
৯০ المانع ---------------আল-মানিই'----------------প্রতিহতকারী
৯১ الضار -----------------আয্-যর ----------------ক্ষতিসাধনকারী
৯২ النافع ----------------আন্-নাফিই'---------------- কল্যাণকারী
৯৩ النور ----------------আন্-নূর----------------পরম-আলো
৯৪ الهادي ---------------আল-হাদী ----------------পথ-প্রদর্শক
৯৫ البديع -----------------আল-বাদীই'-----------------অতুলনীয়
৯৬ الباقي ------------আল-বাক্বী ----------------চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর
৯৭ الوارث --------------আল-ওয়ারিস----------------উত্তরাধিকারী
৯৮ الرشيد ------------আর-রাশীদ----------------সঠিক পথ-প্রদর্শক
৯৯ الصبور --------------আস-সবুর ----------------অত্যধিক ধৈর্যধারণকারী






মানব সৃষ্টির ইতিহাস

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম


পৃথিবীতে মানবজাতি মহান আল্লাহ তাআলার এক অনন্য সৃষ্টিশ্রেষ্ঠ কাজ করার জন্যই মানুষের সৃষ্টিআসমান জমিন সৃষ্টির পর কোন এক সময় মহান আল্লাহ তাআলার জীন জাতি সৃষ্টি করেনমানব জাতি সৃষ্টির পূর্বে অনেককাল যাবৎ এই জীন জাতি পৃথিবীতে বসবাস করেছিল কিন্তু জীন জাতি এক সময়ে চরম অশান্তি ও ফেৎনা-ফাসাদে লিপ্ত হওয়ায় আল্লাহ পাক মানব জাতি সৃষ্টি করার ইচ্ছা ফেরেশতাদের নিকট প্রকাশ করলেন।



মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাঁর একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেনঅতঃপর শ্রেষ্ঠত্বের এক সম্মানজনক আনুষ্ঠানিকতা পালনের ইচ্ছায় ফেরেশতাকুলকে আদম (আঃ)-এর প্রতি সিজদা করার আদেশ করেনশ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের প্রতিহিংসায় ইবলীস আল্লাহ আদেশ অমান্য করলসে আদম (আঃ)-কে সিজদা করল না, বাকী সকলেই সিজদা করলফলে মানব সৃষ্টিতে এক বিতর্কের অবতারণা হ

মহান প্রভু এসব কিছুই জানতেনতিনি মানুষকে ইবলীসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সর্বদাই জয়ী থাকার জন্য জ্ঞান-বিবেক সহ সৃষ্টি করে বহু পরামর্শ দান করেনএদিকে ইবলীস এবং প্রাথমিক বিজয়ে বিপর্যস্ত আদম (আঃ)-কে পৃথিবীতে আগমন করতে হয়এরপরই শুরু হয় মানব জাতির চরম ক্ষতি সাধনে ইবলীস এর দুর্গম অভিযানইবলীসের মিথ্যা ও কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের নিকট পরাজয়ের পর আদম (আঃ) লজ্জিত হন এবং আল্লাহ নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেনপরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং বিশেষ বিশেষ উপদেশমালাসহ পৃথিবীতে সাময়িক নির্বাসন দেনএরপর আদম (আঃ)-এর পরবর্তী জীবন সাফল্যের মধ্যেই অতিবাহিত হয়

আদম (আঃ)-এর জন্মবৃত্তান্ত ও প্রাথমিক ইতিহাস পবিত্র কুরআনে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, এখানে তা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হআল্লাহ তাআলা বলেন,

যখন তোমার মালিক (তাঁর) ফেরেশতাদের (সম্বোধন করে) বললেন, আমি পৃথিবীতে (আমার) খলীফা বানাতে চাই; তারা বললো, তুমি কি এমন কাউকে (খলীফা) বানাতে চাও যে (তোমার) যমীনে (বিশৃংখলা ও) বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং (স্বার্থের জন্যে) তারা রক্তপাত করবে, আমরাই তো তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার তাসবীহ পড়ছি এবং (প্রতিনিয়ত) তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জানো নাআল্লাহ তা'আলা অতঃপর (তাঁর খলীফা) আদমকে (প্রয়োজনীয়) সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিলেন, পরে তিনি সেগুলো ফেরেশতাদের কাছে পেশ করে বললেন, (তোমাদের আশংকার ব্যাপারে) তোমরা যদি সত্যবাদী হও (তাহলে) তোমরা আমাকে এ নামগুলো বলো তো? ফেরেশতারা বললো (হে আল্লাহ তায়ালা), তুমি পবিত্র, আমাদের তো (এর বাইরে আর) কিছুই জানা নেই যা তুমি আমাদের শিক্ষা দিয়েছো; তুমিই একমাত্র জ্ঞানী, একমাত্র কুশলীআল্লাহ তায়ালা (এবার) আদমকে বললেন, তুমি তাদের কাছে তাদের নামগুলো বলে দাও, অতএব আদম (আল্লাহর নির্দেশে) তাদের (সামনে) তাদের নামগুলো যখন (সুন্দরভাবে) বলে দিলো, তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় না দেখা বস্তু জানি এবং তোমরা যা কিছু প্রকাশ করো আর না করো আমি তাও ভালোভাবে জানিআল্লাহ তা'আলা যখন ফেরেশতাদের বললেন, তোমরা (সম্মানের প্রতীক হিসেবে) আদমের জন্যে সাজদা করো, অতঃপর তারা (আল্লাহর আদেশে) আদমের সামনে সাজদা করলো- শুধু ইবলীস ছাড়া; সে সাজদা করতে অস্বীকার করলো এবং অহংকার করলো এবং সে কাফিরদের দলে শামিল থেকে গেলো’ {সূরা আল বাক্বারা, আয়াত ৩০-৩৪}একই বিষয়বস্ত্তর উপর অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন,

‘(স্মরণ করো,) যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আমি (অচিরেই) ছাঁচে ঢালা ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে মানুষ পয়দা করতে যাচ্ছিঅতঃপর যখন আমি তাকে পুরোপুরি সুঠাম করে নেবো এবং আমার রূহ থেকে (কিছু) তাতে ফুঁকে দেবো, তখন তোমরা সবাই তার সামনে সাজদাবনত হয়ে যাবেঅতঃপর (আল্লাহর আদেশে) ফেরেশতারা সবাই সাজদা করলো, একমাত্র ইবলীস ছাড়া- সে সাজদাকারীদের দলভুক্ত হতে অস্বীকার করলোআল্লাহ তা'আলা বললেন, তোমার কি হলো, তুমি যে সাজদাকারীদের দলে শামিল হলে না! সে বললো (হে আল্লাহ), আমি কখনো এমন মানুষের জন্য সাজদা করতে পারি না- যাকে তুমি ছাঁচে ঢালা শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে বানিয়েছোআল্লাহ তা'আলা বললেন, (তাই যদি বলো) তাহলে তুমি (এক্ষুণি) এখান থেকে বেরিয়ে যাও, কেননা তুমি অভিশপ্ত’ {সূরা আল হিজর, আয়াত ২৮-৩৪}

সূরা আল বাকারাহ

* মদীনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ২৮৬ *

 بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
الم         (1
আলিফ লাম মীম  
Alif-Lâm-Mîm. [These letters are one of the miracles of the Qur’ân and none but Allâh (Alone) knows their meanings].      

ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ     (2
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,          
This is the Book (the Qur’ân), whereof there is no doubt, a guidance to those who are Al-Muttaqûn [the pious and righteous persons who fear Allâh much (abstain from all kinds of sins and evil deeds which He has forbidden) and love Allâh much (perform all kinds of good deeds which He has ordained)].          

الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ            (3
যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে  
Who believe in the Ghaib and perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and spend out of what we have provided for them [i.e. give Zakât , spend on themselves, their parents, their children, their wives, etc., and also give charity to the poor and also in Allâh’s Cause - Jihâd, etc.]. 

والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (4
এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে
And who believe in (the Qur’ân and the Sunnah) which has been sent down (revealed) to you (Muhammad Peace be upon him ) and in [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel), etc.] which were sent down before you and they believe with certainty in the Hereafter. (Resurrection, recompense of their good and bad deeds, Paradise and Hell, etc.).

أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ   (5
তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম   
They are on (true) guidance from their Lord, and they are the successful.   

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ (6
নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না    
Verily, those who disbelieve, it is the same to them whether you (O Muhammad Peace be upon him ) warn them or do not warn them, they will not believe.       

خَتَمَ اللّهُ عَلَى قُلُوبِهمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عظِيمٌ     (7
আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি   
Allâh has set a seal on their hearts and on their hearings, (i.e. They are closed from accepting Allâh’s Guidance), and on their eyes there is a covering. Theirs will be a great torment.       

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ           (8
আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয় 
And of mankind, there are some (hypocrites) who say: ”We believe in Allâh and the Last Day” while in fact they believe not.     

يُخَادِعُونَ اللّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلاَّ أَنفُسَهُم وَمَا يَشْعُرُونَ       (9
তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয় অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না  
They (think to) deceive Allâh and those who believe, while they only deceive themselves, and perceive (it) not! 

فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللّهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ (10
তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন 
In their hearts is a disease (of doubt and hypocrisy) and Allâh has increased their disease. A painful torment is theirs because they used to tell lies. 

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لاَ تُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ قَالُواْ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11
আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি
And when it is said to them: ”Make not mischief on the earth,” they say: ”We are only peacemakers.”     

أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـكِن لاَّ يَشْعُرُونَ (12
মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না   
Verily! They are the ones who make mischief, but they perceive not.          

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُواْ كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُواْ أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاء أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاء وَلَـكِن لاَّ يَعْلَمُونَ   (13
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না  
And when it is said to them (hypocrites): ”Believe as the people (followers of Muhammad Peace be upon him , Al-Ansâr and Al-Muhajirûn) have believed,” they say: ”Shall we believe as the fools have believed?” Verily, they are the fools, but they know not

وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْاْ إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُواْ إِنَّا مَعَكْمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُونَ (14
আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্রা  
And when they meet those who believe, they say: ”We believe,” but when they are alone with their Shayâtin (devils - polytheists, hypocrites, etc.), they say: ”Truly, we are with you; verily, we were but mocking.”   

 اللّهُ يَسْتَهْزِىءُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ    (15
বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে    
Allâh mocks at them and gives them increase in their wrongdoings to wander blindly.      
           
أُوْلَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرُوُاْ الضَّلاَلَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ       (16
তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি
These are they who have purchased error for guidance, so their commerce was profitless. And they were not guided.           

مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَاراً فَلَمَّا أَضَاءتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لاَّ يُبْصِرُونَ           (17
তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না 
Their likeness is as the likeness of one who kindled a fire; then, when it lighted all around him, Allâh took away their light and left them in darkness. (So) they could not see.      

صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لاَ يَرْجِعُونَ            (18
তারা বধির, মূক ও অন্ধ সুতরাং তারা ফিরে আসবে না 
They are deaf, dumb, and blind, so they return not (to the Right Path).      

أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاء فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصْابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ واللّهُ مُحِيطٌ بِالْكافِرِينَ        (19
আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায় অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত 
Or like a rainstorm from the sky, wherein is darkness, thunder, and lightning. They thrust their fingers in their ears to keep out the stunning thunderclap for fear of death. But Allâh ever encompasses the disbelievers (i.e. Allâh will gather them all together). 

يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاء لَهُم مَّشَوْاْ فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُواْ وَلَوْ شَاء اللّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّه عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ          (20
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল
The lightning almost snatches away their sight, whenever it flashes for them, they walk therein, and when darkness covers them, they stand still. And if Allâh willed, He could have taken away their hearing and their sight. Certainly, Allâh has power over all things.         

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ      (21
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে       
O mankind! Worship your Lord (Allâh), Who created you and those who were before you so that you may become Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2). 

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ          (22
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না বস্তুতঃ এসব তোমরা জান   
Who has made the earth a resting place for you, and the sky as a canopy, and sent down water (rain) from the sky and brought forth therewith fruits as a provision for you. Then do not set up rivals unto Allâh (in worship) while you know (that He Alone has the right to be worshipped).         

وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُواْ شُهَدَاءكُم مِّن دُونِ اللّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ    (23

এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো     
And if you (Arab pagans, Jews, and Christians) are in doubt concerning that which We have sent down (i.e. the Qur’ân) to Our slave (Muhammad Peace be upon him ), then produce a Sûrah (chapter) of the like thereof and call your witnesses (supporters and helpers) besides Allâh, if you are truthful.  

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ وَلَن تَفْعَلُواْ فَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ           (24
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য 
But if you do it not, and you can never do it, then fear the Fire (Hell) whose fuel is men and stones, prepared for the disbelievers.   

وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ          (25
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে
And give glad tidings to those who believe and do righteous good deeds, that for them will be Gardens under which rivers flow (Paradise). Every time they will be provided with a fruit therefrom, they will say: ”This is what we were provided with before,” and they will be given things in resemblance (i.e. in the same form but different in taste) and they shall have therein Azwâjun Mutahharatun (purified mates or wives), (having no menses, stools, urine, etc.) and they will abide therein forever.          
 إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلاً مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُواْ فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَـذَا مَثَلاً يُضِلُّ بِهِ كَثِيراً وَيَهْدِي بِهِ كَثِيراً وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلاَّ الْفَاسِقِينَ            (26
আল্লাহ পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদুর্ধ্ব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না বস্তুতঃ যারা মুমিন তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত এ উপমা সম্পূর্ণ নির্ভূল ও সঠিক আর যারা কাফের তারা বলে, এরূপ উপমা উপস্থাপনে আল্লাহর মতলবই বা কি ছিল এ দ্বারা আল্লাহ তাআলা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকেও বিপথগামী করেন না     
Verily, Allâh is not ashamed to set forth a parable even of a mosquito or so much more when it is bigger (or less when it is smaller) than it. And as for those who believe, they know that it is the Truth from their Lord, but as for those who disbelieve, they say: ”What did Allâh intend by this parable?” By it He misleads many, and many He guides thereby. And He misleads thereby only those who are Al-Fâsiqûn (the rebellious, disobedient to Allâh).  

الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الأَرْضِ أُولَـئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ    (27
(বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত 
Those who break Allâh’s Covenant after ratifying it, and sever what Allâh has ordered to be joined (as regards Allâh’s Religion of Islâmic Monotheism, and to practise its legal laws on the earth and also as regards keeping good relations with kith and kin ), and do mischief on earth, it is they who are the losers.             

كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتاً فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ     (28
কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে
How can you disbelieve in Allâh? Seeing that you were dead and He gave you life. Then He will give you death, then again will bring you to life (on the Day of Resurrection) and then unto Him you will return. 

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ      (29
তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত     
He it is Who created for you all that is on earth. Then He Istawâ (rose over) towards the heaven and made them seven heavens and He is the All-Knower of everything.      

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلاَئِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُواْ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاء وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لاَ تَعْلَمُونَ            (30
আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না
And (remember) when your Lord said to the angels: ”Verily, I am going to place (mankind) generations after generations on earth.” They said: ”Will You place therein those who will make mischief therein and shed blood, - while we glorify You with praises and thanks (Exalted be You above all that they associate with You as partners) and sanctify You.” He (Allâh) said: ”I know that which you do not know.”           

وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاء كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاء هَـؤُلاء إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ        (31
আর আল্লাহ তাআলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক 
And He taught Adam all the names (of everything) , then He showed them to the angels and said, ”Tell Me the names of these if you are truthful.” 
قَالُواْ سُبْحَانَكَ لاَ عِلْمَ لَنَا إِلاَّ مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ  (32
তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা  
They (angels) said: ”Glory be to You, we have no knowledge except what you have taught us. Verily, it is You, the All-Knower, the All-Wise.”   

قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ فَلَمَّا أَنبَأَهُمْ بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ (33
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!  
He said: ”O Adam! Inform them of their names,” and when he had informed them of their names, He said: ”Did I not tell you that I know the Ghaib (unseen) in the heavens and the earth, and I know what you reveal and what you have been concealing?”          

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلاَئِكَةِ اسْجُدُواْ لآدَمَ فَسَجَدُواْ إِلاَّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ            (34
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল    
And (remember) when We said to the angels: ”Prostrate yourselves before Adam.”. And they prostrated except Iblîs (Satan), he refused and was proud and was one of the disbelievers (disobedient to Allâh).

وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلاَ مِنْهَا رَغَداً حَيْثُ شِئْتُمَا وَلاَ تَقْرَبَا هَـذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الْظَّالِمِينَ (35
এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে
And We said: ”O Adam! Dwell you and your wife in the Paradise and eat both of you freely with pleasure and delight of things therein as wherever you will, but come not near this tree or you both will be of the Zâlimûn (wrong-doers).”          

فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُواْ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ            (36
অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে
Then the Shaitân (Satan) made them slip therefrom (the Paradise), and got them out from that in which they were. We said: ”Get you down, all, with enmity between yourselves. On earth will be a dwelling place for you and an enjoyment for a time.”           

فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ    (37
অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু
Then Adam received from his Lord Words . And his Lord pardoned him (accepted his repentance). Verily, He is the One Who forgives (accepts repentance), the Most Merciful.

قُلْنَا اهْبِطُواْ مِنْهَا جَمِيعاً فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ         (38
আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে    
We said: ”Get down all of you from this place (the Paradise), then whenever there comes to you Guidance from Me, and whoever follows My Guidance, there shall be no fear on them, nor shall they grieve.  
 وَالَّذِينَ كَفَرواْ وَكَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا أُولَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ      (39
আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে  
But those who disbelieve and belie Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) such are the dwellers of the Fire, they shall abide therein forever.           

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُواْ بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ          (40
হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব আর ভয় কর আমাকেই     
O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you, and fulfill (your obligations to) My Covenant (with you) so that I fulfill (My Obligations to) your covenant (with Me), and fear none but Me.            

وَآمِنُواْ بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَكُمْ وَلاَ تَكُونُواْ أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلاَ تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ           (41
আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ
And believe in what I have sent down (this Qur’ân), confirming that which is with you, [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)], and be not the first to disbelieve therein, and buy [get (ÊÇÎÐ ÇÌÑÇ)] not with My Verses [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] a small price (i.e. getting a small gain by selling My Verses), and fear Me and Me Alone. (Tafsir At-Tabarî, Vol. I, Page 253).        

وَلاَ تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ         (42
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না      
And mix not truth with falsehood, nor conceal the truth [i.e. Muhammad Peace be upon him is Allâh’s Messenger and his qualities are written in your Scriptures, the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] while you know (the truth) .

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ            (43
আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়    
And perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât, and Irka’ (i.e. bow down or submit yourselves with obedience to Allâh) along with Ar­Raki’ûn. 

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ   (44
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?        
Enjoin you Al-Birr (piety and righteousness and each and every act of obedience to Allâh) on the people and you forget (to practise it) yourselves, while you recite the Scripture [the Taurât (Torah)]! Have you then no sense?     

وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ (45
ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব   
And seek help in patience and As-Salât (the prayer) and truly it is extremely heavy and hard except for Al-Khâshi’ûn [i.e. the true believers in Allâh - those who obey Allâh with full submission, fear much from His Punishment, and believe in His Promise (Paradise, etc.) and in His Warnings (Hell, etc.)]. 

الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلاَقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ  (46
যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে 
(They are those) who are certain that they are going to meet their Lord, and that unto Him they are going to return.           

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ      (47
হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর  
O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you and that I preferred you to the ’Alamîn (mankind and jinns) (of your time period, in the past).         

وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ            (48
আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না
And fear a Day (of Judgement) when a person shall not avail another, nor will intercession be accepted from him nor will compensation be taken from him nor will they be helped.         

وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوَءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءكُمْ وَفِي ذَلِكُم بَلاء مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ    (49
আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা   
And (remember) when We delivered you from Fir’aun’s (Pharaoh) people, who were afflicting you with a horrible torment, killing your sons and sparing your women, and therein was a mighty trial from your Lord.          

وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ       (50
আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা দেখছিলে     
And (remember) when We separated the sea for you and saved you and drowned Fir’aun’s (Pharaoh) people while you were looking (at them, when the sea-water covered them).       

وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ (51
আর যখন আমি মূসার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির অতঃপর তোমরা গোবৎস বানিয়ে নিয়েছ মূসার অনুপস্থিতিতে বস্তুতঃ তোমরা ছিলে যালেম     
And (remember) when We appointed for Mûsa (Moses) forty nights, and (in his absence) you took the calf (for worship), and you were Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).         

ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُمِ مِّن بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ          (52
তারপর আমি তাতেও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও      
Then after that We forgave you so that you might be grateful.
             
وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ      (53
আর (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে কিতাব এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার 
And (remember) when We gave Mûsa (Moses) the Scripture [the Taurât (Torah)] and the criterion (of right and wrong) so that you may be guided aright.     

وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُواْ إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ            (54
আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান  
And (remember) when Mûsa (Moses) said to his people: ”O my people! Verily, you have wronged yourselves by worshipping the calf. So turn in repentance to your Creator and kill yourselves (the innocent kill the wrongdoers among you), that will be better for you with your Lord.” Then He accepted your repentance. Truly, He is the One Who accepts repentance, the Most Merciful.

وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ       (55
আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে   
And (remember) when you said: ”O Mûsa (Moses)! We shall never believe in you till we see Allâh plainly.” But you were seized with a thunderbolt (lightning) while you were looking.

ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (56

তারপর, মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও     
Then We raised you up after your death, so that you might be grateful.
             
وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـكِن كَانُواْ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ     (57
আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে
And We shaded you with clouds and sent down on you Al-Manna and the quails, (saying): ”Eat of the good lawful things We have provided for you,” (but they rebelled). And they did not wrong Us but they wronged themselves.           

وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُواْ هَـذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُواْ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَداً وَادْخُلُواْ الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُواْ حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ      (58
আর যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ কর এ নগরীতে এবং এতে যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাক এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে ঢুক, আর বলতে থাক-আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও’-তাহলে আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব   
And (remember) when We said: ”Enter this town (Jerusalem) and eat bountifully therein with pleasure and delight wherever you wish, and enter the gate in prostration (or bowing with humility) and say: ’Forgive us,’ and We shall forgive you your sins and shall increase (reward) for the good-doers.”        

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُواْ قَوْلاً غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ رِجْزاً مِّنَ السَّمَاء بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ            (59
অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে  
But those who did wrong changed the word from that which had been told to them for another, so We sent upon the wrong-doers Rijzan (a punishment) from the heaven because of their rebelling against Allâh’s Obedience. (Tafsir At-Tabarî, Vol. I, Page 305). 

وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْناً قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ كُلُواْ وَاشْرَبُواْ مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلاَ تَعْثَوْاْ فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ     (60
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না
And (remember) when Mûsa (Moses) asked for water for his people, We said: ”Strike the stone with your stick.” Then gushed forth therefrom twelve springs. Each (group of) people knew its own place for water. ”Eat and drink of that which Allâh has provided and do not act corruptly, making mischief on the earth.”    

وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نَّصْبِرَ عَلَىَ طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنبِتُ الأَرْضُ مِن بَقْلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُواْ مِصْراً فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَآؤُوْاْ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُواْ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ  (61
আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী 
And (remember) when you said, ”O Mûsa (Moses)! We cannot endure one kind of food. So invoke your Lord for us to bring forth for us of what the earth grows, its herbs, its cucumbers, its Fûm (wheat or garlic), its lentils and its onions.” He said, ”Would you exchange that which is better for that which is lower? Go you down to any town and you shall find what you want!” And they were covered with humiliation and misery, and they drew on themselves the Wrath of Allâh. That was because they used to disbelieve the Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) of Allâh and killed the Prophets wrongfully. That was because they disobeyed and used to transgress the bounds (in their disobedience to Allâh, i.e. commit crimes and sins).

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَادُواْ وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحاً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ   (62
নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না
Verily! Those who believe and those who are Jews and Christians, and Sabians, whoever believes in Allâh and the Last Day and do righteous good deeds shall have their reward with their Lord, on them shall be no fear, nor shall they grieve .   

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُواْ مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ    (63
আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর 
And (O Children of Israel, remember) when We took your covenant and We raised above you the Mount (saying): ”Hold fast to that which We have given you, and remember that which is therein so that you may become Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2).      

ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَلِكَ فَلَوْلاَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ          (64
তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে  
Then after that you turned away. Had it not been for the Grace and Mercy of Allâh upon you, indeed you would have been among the losers.  

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَواْ مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ   (65
তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও   
And indeed you knew those amongst you who transgressed in the matter of the Sabbath (i.e. Saturday). We said to them: ”Be you monkeys, despised and rejected.”     

فَجَعَلْنَاهَا نَكَالاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ      (66
অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি    
So We made this punishment an example to their own and to succeeding generations and a lesson to those who are Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2). 

وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُواْ بَقَرَةً قَالُواْ أَتَتَّخِذُنَا هُزُواً قَالَ أَعُوذُ بِاللّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ   (67
যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি
And (remember) when Mûsa (Moses) said to his people: ”Verily, Allâh commands you that you slaughter a cow.” They said, ”Do you make fun of us?” He said, ”I take Allâh’s Refuge from being among Al-Jâhilûn (the ignorants or the foolish).”  

قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لّنَا مَا هِيَ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لاَّ فَارِضٌ وَلاَ بِكْرٌ عَوَانٌ بَيْنَ ذَلِكَ فَافْعَلُواْ مَا تُؤْمَرونَ (68
তারা বলল, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয় মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলছেন, সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয়-বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল  
They said, ”Call upon your Lord for us that He may make plain to us what it is!” He said, ”He says, ’Verily, it is a cow neither too old nor too young, but (it is) between the two conditions’, so do what you are commanded.”     

قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاء فَاقِـعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ          (69

তারা বলল, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যে, তার রঙ কিরূপ হবে? মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভী-যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে  
They said, ”Call upon your Lord for us to make plain to us its colour.” He said, ”He says, ’It is a yellow cow, bright in its colour, pleasing to the beholders.’ ”      

قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ إِنَّ البَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّآ إِن شَاء اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ  (70
তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন-তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয় ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়-হবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত   
They said, ”Call upon your Lord for us to make plain to us what it is. Verily to us all cows are alike, And surely, if Allâh wills, we will be guided.”        

قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لاَّ ذَلُولٌ تُثِيرُ الأَرْضَ وَلاَ تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لاَّ شِيَةَ فِيهَا قَالُواْ الآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفْعَلُونَ           (71
তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছ অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না     
He [Mûsa (Moses)] said, ”He says, ’It is a cow neither trained to till the soil nor water the fields, sound, having no other colour except bright yellow.’ ” They said, ”Now you have brought the truth.” So they slaughtered it though they were near to not doing it.           

وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْساً فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللّهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ      (72
যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়  
And (remember) when you killed a man and fell into dispute among yourselves as to the crime. But Allâh brought forth that which you were hiding.     

فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ          (73
অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা কর
So We said: ”Strike him (the dead man) with a piece of it (the cow).” Thus Allâh brings the dead to life and shows you His Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) so that you may understand.        
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّن بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاء وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللّهِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ    (74
অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসেপড়তে থাকে! আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন   
Then, after that, your hearts were hardened and became as stones or even worse in hardness. And indeed, there are stones out of which rivers gush forth, and indeed, there are of them (stones) which split asunder so that water flows from them, and indeed, there are of them (stones) which fall down for fear of Allâh. And Allâh is not unaware of what you do.  

أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُواْ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلاَمَ اللّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِن بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ       (75
হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল  
Do you (faithful believers) covet that they will believe in your religion inspite of the fact that a party of them (Jewish rabbis) used to hear the Word of Allâh [the Taurât (Torah)], then they used to change it knowingly after they understood it?

وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلاَ بَعْضُهُمْ إِلَىَ بَعْضٍ قَالُواْ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ اللّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَآجُّوكُم بِهِ عِندَ رَبِّكُمْ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ    (76
যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা মুসলমান হয়েছি আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালকর্তার সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?           
And when they (Jews) meet those who believe (Muslims), they say, ”We believe”, but when they meet one another in private, they say, ”Shall you (Jews) tell them (Muslims) what Allâh has revealed to you [Jews, about the description and the qualities of Prophet Muhammad Peace be upon him , that which are written in the Taurât (Torah)] , that they (Muslims) may argue with you (Jews) about it before your Lord?” Have you (Jews) then no understanding?          

أَوَلاَ يَعْلَمُونَ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ    (77
তারা কি এতটুকুও জানে না যে, আল্লাহ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে?    
Know they (Jews) not that Allâh knows what they conceal and what they reveal? 

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لاَ يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلاَّ أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلاَّ يَظُنُّونَ  (78
তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই   
And there are among them (Jews) unlettered people, who know not the Book, but they trust upon false desires and they but guess.           

فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَـذَا مِنْ عِندِ اللّهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ             (79
অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে   
Then woe to those who write the Book with their own hands and then say, ”This is from Allâh,” to purchase with it a little price! Woe to them for what their hands have written and woe to them for that they earn thereby.

وَقَالُواْ لَن تَمَسَّنَا النَّارُ إِلاَّ أَيَّاماً مَّعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ اللّهِ عَهْدًا فَلَن يُخْلِفَ اللّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ      (80
তারা বলেঃ আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন না-না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ  
And they (Jews) say, ”The Fire (i.e. Hell-fire on the Day of Resurrection) shall not touch us but for a few numbered days.” Say (O Muhammad Peace be upon him to them): ”Have you taken a covenant from Allâh, so that Allâh will not break His Covenant? Or is it that you say of Allâh what you know not?”         

بَلَى مَن كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيـئَتُهُ فَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ            (81
হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে 
Yes! Whosoever earns evil and his sin has surrounded him, they are dwellers of the Fire (i.e. Hell); they will dwell therein forever.           

وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أُولَـئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ            (82
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে     
And those who believe (in the Oneness of Allâh ÊÚÇáì - Islâmic Monotheism) and do righteous good deeds, they are dwellers of Paradise, they will dwell therein forever.     

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لاَ تَعْبُدُونَ إِلاَّ اللّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسْناً وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلاَّ قَلِيلاً مِّنكُمْ وَأَنتُم مِّعْرِضُونَ     (83
যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী     
And (remember) when We took a covenant from the Children of Israel, (saying): Worship none but Allâh (Alone) and be dutiful and good to parents, and to kindred, and to orphans and Al-Masâkîn (the poor), [Tafsir At-Tabarî, Vol. 10, Page 158 (Verse 9:60)] and speak good to people [i.e. enjoin righteousness and forbid evil, and say the truth about Muhammad Peace be upon him ], and perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât. Then you slid back, except a few of you, while you are backsliders. (Tafsir Al-Qurtubî, Vol. 2, Page 392).       

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لاَ تَسْفِكُونَ دِمَاءكُمْ وَلاَ تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ        (84
যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে
And (remember) when We took your covenant (saying): Shed not the blood of your people, nor turn out your own people from their dwellings. Then, (this) you ratified and (to this) you bear witness.          

ثُمَّ أَنتُمْ هَـؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقاً مِّنكُم مِّن دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِم بِالإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِن يَأتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاء مَن يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنكُمْ إِلاَّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ    (85
অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন
After this, it is you who kill one another and drive out a party of you from their homes, assist (their enemies) against them, in sin and transgression. And if they come to you as captives, you ransom them, although their expulsion was forbidden to you. Then do you believe in a part of the Scripture and reject the rest? Then what is the recompense of those who do so among you, except disgrace in the life of this world, and on the Day of Resurrection they shall be consigned to the most grievous torment. And Allâh is not unaware of what you do.          

أُولَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآَخِرَةِ فَلاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ         (86
এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না  
Those are they who have bought the life of this world at the price of the Hereafter. Their torment shall not be lightened nor shall they be helped.    

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِن بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءكُمْ رَسُولٌ بِمَا لاَ تَهْوَى أَنفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقاً كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقاً تَقْتُلُونَ     (87
অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ 
And indeed, We gave Mûsa (Moses) the Book and followed him up with a succession of Messengers. And We gave ’Iesa (Jesus), the son of Maryam (Mary), clear signs and supported him with Rûh-ul-Qudus [Jibrael (Gabriel) ]. Is it that whenever there came to you a Messenger with what you yourselves desired not, you grew arrogant? Some, you disbelieved and some, you killed.      

وَقَالُواْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَل لَّعَنَهُمُ اللَّه بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَّا يُؤْمِنُونَ     (88
তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে
And they say, ”Our hearts are wrapped (i.e. do not hear or understand Allâh’s Word).” Nay, Allâh has cursed them for their disbelief, so little is that which they believe.           

وَلَمَّا جَاءهُمْ كِتَابٌ مِّنْ عِندِ اللّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُواْ مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُواْ فَلَمَّا جَاءهُم مَّا عَرَفُواْ كَفَرُواْ بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّه عَلَى الْكَافِرِينَ     (89
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত  
And when there came to them (the Jews), a Book (this Qur’ân) from Allâh confirming what is with them [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)], although aforetime they had invoked Allâh (for coming of Muhammad Peace be upon him ) in order to gain victory over those who disbelieved, then when there came to them that which they had recognised, they disbelieved in it. So let the Curse of Allâh be on the disbelievers.
 بِئْسَمَا اشْتَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُواْ بِمَا أنَزَلَ اللّهُ بَغْياً أَن يُنَزِّلُ اللّهُ مِن فَضْلِهِ عَلَى مَن يَشَاء مِنْ عِبَادِهِ فَبَآؤُواْ بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ            (90
যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; যেহেতু তারা আল্লাহ যা নযিল করেছেন, তা অস্বীকার করেছে এই হঠকারিতার দরুন যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন অতএব, তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি 
How bad is that for which they have sold their ownselves, that they should disbelieve in that which Allâh has revealed (the Qur’ân), grudging that Allâh should reveal of His Grace unto whom He will of His slaves. So they have drawn on themselves wrath upon wrath. And for the disbelievers, there is disgracing torment.           
           
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُواْ بِمَا أَنزَلَ اللّهُ قَالُواْ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرونَ بِمَا وَرَاءهُ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنبِيَاء اللّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ            (91
যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে
And when it is said to them (the Jews), ”Believe in what Allâh has sent down,” they say, ”We believe in what was sent down to us.” And they disbelieve in that which came after it, while it is the truth confirming what is with them. Say (O Muhammad Peace be upon him to them): ”Why then have you killed the Prophets of Allâh aforetime, if you indeed have been believers?” 

وَلَقَدْ جَاءكُم مُّوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ    (92
সুস্পষ্ট মুজেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী     
And indeed Mûsa (Moses) came to you with clear proofs, yet you worshipped the calf after he left, and you were Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).
             
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُواْ مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاسْمَعُواْ قَالُواْ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُواْ فِي قُلُوبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِن كُنتُمْ مُّؤْمِنِينَ          (93
আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয় 
And (remember) when We took your covenant and We raised above you the Mount (saying), ”Hold firmly to what We have given you and hear (Our Word). They said, ”We have heard and disobeyed.” And their hearts absorbed (the worship of) the calf because of their disbelief. Say: ”Worst indeed is that which your faith enjoins on you if you are believers.” 

قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الآَخِرَةُ عِندَ اللّهِ خَالِصَةً مِّن دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُاْ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ           (94
বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক
Say to (them): ”If the home of the Hereafter with Allâh is indeed for you specially and not for others, of mankind, then long for death if you are truthful.”        

وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمينَ          (95
কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন 
But they will never long for it because of what their hands have sent before them (i.e. what they have done). And Allâh is All-Aware of the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).  

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُواْ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ وَاللّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ    (96
আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায় অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে   
And verily, you will find them (the Jews) the greediest of mankind for life and (even greedier) than those who - ascribe partners to Allâh (and do not believe in Resurrection - Magians, pagans, and idolaters, etc.). Everyone of them wishes that he could be given a life of a thousand years. But the grant of such life will not save him even a little from (due) punishment. And Allâh is All-Seer of what they do.

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللّهِ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ (97
আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা
Say (O Muhammad Peace be upon him ): ”Whoever is an enemy to Jibrael (Gabriel) (let him die in his fury), for indeed he has brought it (this Qur’ân) down to your heart by Allâh’s Permission, confirming what came before it [i.e. the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] and guidance and glad tidings for the believers.           

مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ        (98
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু    
”Whoever is an enemy to Allâh, His Angels, His Messengers, Jibrael (Gabriel) and Mikael (Michael), then verily, Allâh is an enemy to the disbelievers.”          

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلاَّ الْفَاسِقُونَ        (99
আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না 
And indeed We have sent down to you manifest Ayât (these Verses of the Qur’ân which inform in detail about the news of the Jews and their secret intentions, etc.), and none disbelieve in them but Fâsiqûn (those who rebel against Allâh’s Command).    

أَوَكُلَّمَا عَاهَدُواْ عَهْداً نَّبَذَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُم بَلْ أَكْثَرُهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ   (100
কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না    
Is it not (the case) that every time they make a covenant, some party among them throw it aside? Nay! the truth is most of them believe not.      

وَلَمَّا جَاءهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ كِتَابَ اللّهِ وَرَاء ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ         (101
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না  
And when there came to them a Messenger from Allâh (i.e. Muhammad Peace be upon him ) confirming what was with them, a party of those who were given the Scripture threw away the Book of Allâh behind their backs as if they did not know!

وَاتَّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولاَ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلاَ تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلاَ يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ     (102
তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত    
They followed what the Shayâtin (devils) gave out (falsely of the magic) in the lifetime of Sulaimân (Solomon). Sulaimân did not disbelieve, but the Shayâtin (devils) disbelieved, teaching men magic and such things that came down at Babylon to the two angels, Hârût and Mârût, but neither of these two (angels) taught anyone (such things) till they had said, ”We are only for trial, so disbelieve not (by learning this magic from us).” And from these (angels) people learn that by which they cause separation between man and his wife, but they could not thus harm anyone except by Allâh’s Leave. And they learn that which harms them and profits them not. And indeed they knew that the buyers of it (magic) would have no share in the Hereafter. And how bad indeed was that for which they sold their ownselves, if they but knew.     

وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُواْ واتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ اللَّه خَيْرٌ لَّوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ          (103
যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত যদি তারা জানত     
And if they had believed, and guarded themselves from evil and kept their duty to Allâh, far better would have been the reward from their Lord, if they but knew!  

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقُولُواْ رَاعِنَا وَقُولُواْ انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ْوَلِلكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ  (104
হে মুমিন গণ, তোমরা রায়িনা বলো না-উনযুরনা বল এবং শুনতে থাক আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি  
O you who believe! Say not (to the Messenger Peace be upon him ) Râ’ina but say Unzurna (Do make us understand) and hear. And for the disbelievers there is a painful torment. (See Verse 4:46)           

مَّا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلاَ الْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَاللّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ   (105
আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের, তাদের মনঃপুত নয় যে, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ ভাবে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন আল্লাহ মহান অনুগ্রহদাতা 
Neither those who disbelieve among the people of the Scripture (Jews and Christians) nor Al-Mushrikûn (the disbelievers in the Oneness of Allâh, idolaters, polytheists, pagans, etc.) like that there should be sent down unto you any good from your Lord. But Allâh chooses for His Mercy whom He wills. And Allâh is the Owner of Great Bounty.          
           
مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ       (106
আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?     
Whatever a Verse (revelation) do We abrogate or cause to be forgotten, We bring a better one or similar to it. Know you not that Allâh is able to do all things?    

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللّهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ         (107
তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই  
Know you not that it is Allâh to Whom belongs the dominion of the heavens and the earth? And besides Allâh you have neither any Walî (protector or guardian) nor any helper.          

أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْأَلُواْ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِن قَبْلُ وَمَن يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاء السَّبِيلِ          (108
ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন, ) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়     
Or do you want to ask your Messenger (Muhammad Peace be upon him ) as Mûsa (Moses) was asked before (i.e. show us openly our Lord?) And he who changes Faith for disbelief, verily, he has gone astray from the right way.           

وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُواْ وَاصْفَحُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ       (109
আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয় তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়) যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান
Many of the people of the Scripture (Jews and Christians) wish that if they could turn you away as disbelievers after you have believed, out of envy from their ownselves, even, after the truth (that Muhammad Peace be upon him is Allâh’s Messenger) has become manifest unto them. But forgive and overlook, till Allâh brings His Command. Verily, Allâh is Able to do all things.

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ   (110
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন    
And perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât, and whatever of good (deeds that Allâh loves) you send forth for yourselves before you, you shall find it with Allâh. Certainly, Allâh is All-Seer of what you do.

وَقَالُواْ لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَن كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُواْ بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ   (111
ওরা বলে, ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না এটা ওদের মনের বাসনা বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর
And they say, ”None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian.” These are their own desires. Say (O Muhammad Peace be upon him ), ”Produce your proof if you are truthful.”           

بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ   (112
হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না   
Yes, but whoever submits his face (himself) to Allâh (i.e. follows Allâh’s Religion of Islâmic Monotheism) and he is a Muhsin (good-doer i.e. performs good deeds totally for Allâh’s sake only without any show off or to gain praise or fame, etc., and in accordance with the Sunnah of Allâh’s Messenger Muhammad Peace be upon him ) then his reward is with his Lord (Allâh), on such shall be no fear, nor shall they grieve. [See Tafsir Ibn Kathîr, Vol.1, Page 154].   

وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَىَ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ        (113
ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল   
The Jews said that the Christians follow nothing (i.e. are not on the right religion); and the Christians said that the Jews follow nothing (i.e. are not on the right religion); though they both recite the Scripture. Like unto their word, said (the pagans) who know not. Allâh will judge between them on the Day of Resurrection about that wherein they have been differing.   

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُوْلَـئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلاَّ خَآئِفِينَ لهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ      (114
যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদেরপক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে 
 And who is more unjust than those who forbid that Allâh’s Name be glorified and mentioned much (i.e. prayers and invocations, etc.) in Allâh’s Mosques and strive for their ruin? It was not fitting that such should themselves enter them (Allâh’s Mosques) except in fear. For them there is disgrace in this world, and they will have a great torment in the Hereafter. 

وَلِلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللّهِ إِنَّ اللّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ     (115
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ   
And to Allâh belong the east and the west, so wherever you turn yourselves or your faces there is the Face of Allâh (and He is High above, over His Throne). Surely! Allâh is All-Sufficient for His creatures’ needs, All-Knowing. 

وَقَالُواْ اتَّخَذَ اللّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ      (116
তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন
And they (Jews, Christians and pagans) say: Allâh has begotten a son (children or offspring). Glory be to Him (Exalted be He above all that they associate with Him). Nay, to Him belongs all that is in the heavens and on earth, and all surrender with obedience (in worship) to Him.         

بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ      (117
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়  
The Originator of the heavens and the earth. When He decrees a matter, He only says to it : ”Be!” - and it is.        
وَقَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ لَوْلاَ يُكَلِّمُنَا اللّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَّا الآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ    (118
যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে তাদের অন্তর একই রকম নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা প্রত্যয়শীল 
And those who have no knowledge say: ”Why does not Allâh speak to us (face to face) or why does not a sign come to us?” So said the people before them words of similar import. Their hearts are alike, We have indeed made plain the signs for people who believe with certainty.     

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ       (119
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না     
Verily, We have sent you (O Muhammad Peace be upon him ) with the truth (Islâm), a bringer of glad tidings (for those who believe in what you brought, that they will enter Paradise) and a warner (for those who disbelieve in what you brought, they will enter the Hell-fire). And you will not be asked about the dwellers of the blazing Fire.       

وَلَن تَرْضَى عَنكَ الْيَهُودُ وَلاَ النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللّهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ     (120
ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই 
Never will the Jews nor the Christians be pleased with you (O Muhammad Peace be upon him ) till you follow their religion. Say: ”Verily, the Guidance of Allâh (i.e. Islâmic Monotheism) that is the (only) Guidance. And if you (O Muhammad Peace be upon him ) were to follow their (Jews and Christians) desires after what you have received of Knowledge (i.e. the Qur’ân), then you would have against Allâh neither any Walî (protector or guardian) nor any helper.
           
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ أُوْلَـئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمن يَكْفُرْ بِهِ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ         (121
আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত     
Those (who embraced Islâm from Banî Israel) to whom We gave the Book [the Taurât (Torah)] [or those (Muhammad’s Peace be upon him companions) to whom We have given the Book (the Qur’ân)] recite it (i.e. obey its orders and follow its teachings) as it should be recited (i.e. followed), they are the ones that believe therein. And whoso disbelieves in it (the Qur’ân), those are they who are the losers. (Tafsir Al-Qurtubî. Vol. 2, Page 95).        

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ      (122
হে বনী-ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি  
O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you and that I preferred you to the ’Alamîn (mankind and jinns) (of your time-period, in the past).         

وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ     (123
তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কার ও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না  
And fear the Day (of Judgement) when no person shall avail another, nor shall compensation be accepted from him, nor shall intercession be of use to him, nor shall they be helped.      

وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي قَالَ لاَ يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ (124
যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না    
And (remember) when the Lord of Ibrâhim (Abraham) [i.e., Allâh] tried him with (certain) Commands, which he fulfilled. He (Allâh) said (to him), ”Verily, I am going to make you a leader (Prophet) of mankind.” [Ibrâhim (Abraham)] said, ”And of my offspring (to make leaders).” (Allâh) said, ”My Covenant (Prophethood, etc.) includes not Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).”

وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ    (125
যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ     
And (remember) when We made the House (the Ka’bah at Makkah) a place of resort for mankind and a place of safety. And take you (people) the Maqâm (place) of Ibrâhim (Abraham) [or the stone on which Ibrâhim (Abraham) stood while he was building the Ka’bah] as a place of prayer (for some of your prayers, e.g. two Rak’at after the Tawâf of the Ka’bah at Makkah), and We commanded Ibrâhim (Abraham) and Ismâ’il (Ishmael) that they should purify My House (the Ka’bah at Makkah) for those who are circumambulating it, or staying (I’tikâf), or bowing or prostrating themselves (there, in prayer).       

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ       (126
যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর বললেনঃ যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান    
And (remember) when Ibrâhim (Abraham) said, ”My Lord, make this city (Makkah) a place of security and provide its people with fruits, such of them as believe in Allâh and the Last Day.” He (Allâh) answered: ”As for him who disbelieves, I shall leave him in contentment for a while, then I shall compel him to the torment of the Fire, and worst indeed is that destination!”      

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ           (127
স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল তারা দোয়া করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ    
And (remember) when Ibrâhim (Abraham) and (his son) Ismâ’il (Ishmael) were raising the foundations of the House (the Ka’bah at Makkah), (saying), ”Our Lord! Accept (this service) from us. Verily! You are the All-Hearer, the All-Knower.”       

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ           (128
পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী দয়ালু  
”Our Lord! And make us submissive unto You and of our offspring a nation submissive unto You, and show us our Manâsik (all the ceremonies of pilgrimage - Hajj and ’Umrah, etc.), and accept our repentance. Truly, You are the One Who accepts repentance, the Most Merciful.     

رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ العَزِيزُ الحَكِيمُ        (129
হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা
”Our Lord! Send amongst them a Messenger of their own (and indeed Allâh answered their invocation by sending Muhammad Peace be upon him ), who shall recite unto them Your Verses and instruct them in the Book (this Qur’ân) and Al-Hikmah (full knowledge of the Islâmic laws and jurisprudence or wisdom or Prophethood, etc.), and sanctify them. Verily! You are the All-Mighty, the All-Wise.”        

وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلاَّ مَن سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ          (130
ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত 
And who turns away from the religion of Ibrâhim (Abraham) (i.e. Islâmic Monotheism) except him who befools himself? Truly, We chose him in this world and verily, in the Hereafter he will be among the righteous.   

إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ        (131
স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম
When his Lord said to him, ”Submit (i.e. be a Muslim)!” He said, ”I have submitted myself (as a Muslim) to the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).”    

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلاَ تَمُوتُنَّ إَلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ        (132
এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না   
And this (submission to Allâh, Islâm) was enjoined by Ibrâhim (Abraham) upon his sons and by Ya’qûb (Jacob), (saying), ”O my sons! Allâh has chosen for you the (true) religion, then die not except in the Faith of Islâm (as Muslims - Islâmic Monotheism).”
             
أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاء إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُواْ نَعْبُدُ إِلَـهَكَ وَإِلَـهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِلَـهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ            (133
তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব তিনি একক উপাস্য
Or were you witnesses when death approached Ya’qûb (Jacob)? When he said unto his sons, ”What will you worship after me?” They said, ”We shall worship your Ilâh (God - Allâh), the Ilâh (God) of your fathers, Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), One Ilâh (God), and to Him we submit (in Islâm).”             

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ      (134
আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না  
That was a nation who has passed away. They shall receive the reward of what they earned and you of what you earn. And you will not be asked of what they used to do.   

وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُواْ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ       (135
তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না
And they say, ”Be Jews or Christians, then you will be guided.” Say (to them, O Muhammad Peace be upon him ), ”Nay, (We follow) only the religion of Ibrâhim (Abraham), Hanifa [Islâmic Monotheism, i.e. to worship none but Allâh (Alone)], and he was not of Al-Mushrikûn (those who worshipped others along with Allâh - see V.2:105).”           
           
قُولُواْ آمَنَّا بِاللّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ    (136
তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী     
Say (O Muslims), ”We believe in Allâh and that which has been sent down to us and that which has been sent down to Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), Ya’qûb (Jacob), and to Al-Asbât [the twelve sons of Ya’qûb (Jacob)], and that which has been given to Mûsa (Moses) and ’Iesa (Jesus), and that which has been given to the Prophets from their Lord. We make no distinction between any of them, and to Him we have submitted (in Islâm).”          

فَإِنْ آمَنُواْ بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَواْ وَّإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ  (137
অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী
So if they believe in the like of that which you believe, then they are rightly guided, but if they turn away, then they are only in opposition. So Allâh will suffice you against them. And He is the All-Hearer, the All-Knower.           

صِبْغَةَ اللّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدونَ      (138
আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে?আমরা তাঁরই এবাদত করি 
[Our Sibghah (religion) is] the Sibghah (Religion) of Allâh (Islâm) and which Sibghah (religion) can be better than Allâh’s? And we are His worshippers. [Tafsir Ibn Kathîr.]   

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِي اللّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ        (139
আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ
Say (O Muhammad Peace be upon him to the Jews and Christians), ”Dispute you with us about Allâh while He is our Lord and your Lord? And we are to be rewarded for our deeds and you for your deeds. And we are sincere to Him in worship and obedience (i.e. we worship Him Alone and none else, and we obey His Orders).”     

أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَـقَ وَيَعْقُوبَ وَالأسْبَاطَ كَانُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللّهِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ   (140
অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন?     
Or say you that Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), Ya’qûb (Jacob) and Al-Asbât [the twelve sons of Ya’qûb (Jacob)] were Jews or Christians? Say, ”Do you know better or does Allâh (knows better… that they all were Muslims)? And who is more unjust than he who conceals the testimony [i.e. to believe in Prophet Muhammad Peace be upon him when he comes, written in their Books. (See Verse 7:157)] he has from Allâh? And Allâh is not unaware of what you do.”          

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ      (141
তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না     
That was a nation who has passed away. They shall receive the reward of what they earned, and you of what you earn. And you will not be asked of what they used to do.   

سَيَقُولُ السُّفَهَاء مِنَ النَّاسِ مَا وَلاَّهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُواْ عَلَيْهَا قُل لِّلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَن يَشَاء إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ         (142
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান  
The fools (pagans, hypocrites, and Jews) among the people will say, ”What has turned them (Muslims) from their Qiblah [prayer direction (towards Jerusalem)] to which they were used to face in prayer.” Say, (O Muhammad SAW) ”To Allâh belong both, east and the west. He guides whom He wills to a Straight Way.”     
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُواْ شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلاَّ لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلاَّ عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللّهُ وَمَا كَانَ اللّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ       (143
এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয় নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়   
Thus We have made you [true Muslims - real believers of Islâmic Monotheism, true followers of Prophet Muhammad SAW and his Sunnah (legal ways)], a Wasat (just) (and the best) nation, that you be witnesses over mankind and the Messenger (Muhammad SAW) be a witness over you. And We made the Qiblah (prayer direction towards Jerusalem) which you used to face, only to test those who followed the Messenger (Muhammad SAW) from those who would turn on their heels (i.e. disobey the Messenger). Indeed it was great (heavy) except for those whom Allâh guided. And Allâh would never make your faith (prayers) to be lost (i.e. your prayers offered towards Jerusalem). Truly, Allâh is full of kindness, the Most Merciful towards mankind.   

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاء فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوِهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ        (144
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে
Verily! We have seen the turning of your (Muhammad’s SAW) face towards the heaven. Surely, We shall turn you to a Qiblah (prayer direction) that shall please you, so turn your face in the direction of Al-Masjid- al-Harâm (at Makkah). And wheresoever you people are, turn your faces (in prayer) in that direction. Certainly, the people who were given the Scriptures (i.e. Jews and the Christians) know well that, that (your turning towards the direction of the Ka’bah at Makkah in prayers) is the truth from their Lord. And Allâh is not unaware of what they do.          

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُواْ قِبْلَتَكَ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذَاً لَّمِنَ الظَّالِمِينَ     (145
যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন
And even if you were to bring to the people of the Scripture (Jews and Christians) all the Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), they would not follow your Qiblah (prayer direction), nor are you going to follow their Qiblah (prayer direction). And they will not follow each other’s Qiblah (prayer direction). Verily, if you follow their desires after that which you have received of knowledge (from Allâh), then indeed you will be one of the Zâlimûn (polytheists, wrong-doers, etc.).
             
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ          (146
আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে 
Those to whom We gave the Scripture (Jews and Christians) recognise him (Muhammad SAW or the Ka’bah at Makkah) as they recongise their sons. But verily, a party of them conceal the truth while they know it - [i.e. the qualities of Muhammad SAW which are written in the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)].    

الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلاَ تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ  (147
বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না    
(This is) the truth from your Lord. So be you not one of those who doubt. 

وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُواْ الْخَيْرَاتِ أَيْنَ مَا تَكُونُواْ يَأْتِ بِكُمُ اللّهُ جَمِيعًا إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ          (148
আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে) কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল   
For every nation there is a direction to which they face (in their prayers). So hasten towards all that is good. Wheresoever you may be, Allâh will bring you together (on the Day of Resurrection). Truly, Allâh is Able to do all things.

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ            (149
আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন     
And from wheresoever you start forth (for prayers), turn your face in the direction of Al-Masjid-al-Harâm (at Makkah), that is indeed the truth from your Lord. And Allâh is not unaware of what you do.      

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلاَّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلاَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنْهُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ       (150
আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর, সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা আলাদা কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না আমাকেই ভয় কর যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও 
And from wheresoever you start forth (for prayers), turn your face in the direction of Al-Masjid-al-Harâm (at Makkah), and wheresoever you are, turn your faces towards, it (when you pray) so that men may have no argument against you except those of them that are wrong-doers, so fear them not, but fear Me! - And so that I may complete My Blessings on you and that you may be guided.   

كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِّنكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُواْ تَعْلَمُونَ  (151
যেমন, আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমুহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না 
Similarly (to complete My Blessings on you) We have sent among you a Messenger (Muhammad SAW) of your own, reciting to you Our Verses (the Qur’ân) and sanctifying you, and teaching you the Book (the Qur’ân) and the Hikmah (i.e. Sunnah, Islâmic laws and Fiqh - jurisprudence), and teaching you that which you used not to know.           

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ        (152
সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না    
Therefore remember Me (by praying, glorifying, etc.). I will remember you, and be grateful to Me (for My countless Favours on you) and never be ungrateful to Me.       

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ     (153
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন    
O you who believe! Seek help in patience and As-Salât (the prayer). Truly! Allâh is with As-Sâbirin (the patient ones, etc.).      

وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ   (154
আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না     
And say not of those who are killed in the Way of Allâh, ”They are dead.” Nay, they are living, but you perceive (it) not.     

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوفْ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الأَمَوَالِ وَالأنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ        (155
এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের
And certainly, We shall test you with something of fear, hunger, loss of wealth, lives and fruits, but give glad tidings to As-Sâbirin (the patient ones, etc.).

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ      (156
যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো 
Who, when afflicted with calamity, say: ”Truly! To Allâh we belong and truly, to Him we shall return.”

أُولَـئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَـئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ            (157
তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত     
They are those on whom are the Salawât (i.e. blessings, etc.) (i.e. who are blessed and will be forgiven) from their Lord, and (they are those who) receive His Mercy, and it is they who are the guided-ones.           

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ اللّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ     (158
নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তাআলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তাআলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন 
Verily! As-Safâ and Al-Marwah (two mountains in Makkah) are of the Symbols of Allâh. So it is not a sin on him who perform Hajj or ’Umrah (pilgrimage) of the House (the Ka’bah at Makkah) to perform the going (Tawâf) between them (As-Safâ and Al-Marwah). And whoever does good voluntarily, then verily, Allâh is All-Recogniser, All-Knower.   
  
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَـئِكَ يَلعَنُهُمُ اللّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ         (159
নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যেসব বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণের ও  
Verily, those who conceal the clear proofs, evidences and the guidance, which We have sent down, after We have made it clear for the people in the Book, they are the ones cursed by Allâh and cursed by the cursers.      

إِلاَّ الَّذِينَ تَابُواْ وَأَصْلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَـئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ           (160
তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু     
Except those who repent and do righteous deeds, and openly declare (the truth which they concealed). These, I will accept their repentance. And I am the One Who accepts repentance, the Most Merciful.   

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللّهِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ            (161
নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লানত
Verily, those who disbelieve, and die while they are disbelievers, it is they on whom is the Curse of Allâh and of the angels and of mankind, combined.
             
خَالِدِينَ فِيهَا لاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنظَرُونَ           (162
এরা চিরকাল এ লানতের মাঝেই থাকবে তাদের উপর থেকে আযাব কখনও হালকা করা হবে না বরং এরা বিরাম ও পাবে না  
They will abide therein (under the curse in Hell), their punishment will neither be lightened, nor will they be reprieved.       

وَإِلَـهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ      (163
আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই
And your Ilâh (God) is One Ilâh (God - Allâh), Lâ ilâha illa Huwa (there is none who has the right to be worshipped but He), the Most Beneficent, the Most Merciful.    

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللّهُ مِنَ السَّمَاء مِن مَّاء فَأَحْيَا بِهِ الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخِّرِ بَيْنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ لآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ     (164
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে আর আল্লাহ তা আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে  
Verily! In the creation of the heavens and the earth, and in the alternation of night and day, and the ships which sail through the sea with that which is of use to mankind, and the water (rain) which Allâh sends down from the sky and makes the earth alive therewith after its death, and the moving (living) creatures of all kinds that He has scattered therein, and in the veering of winds and clouds which are held between the sky and the earth, are indeed Ayât (proofs, evidences, signs, etc.) for people of understanding.

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلّهِ جَمِيعاً وَأَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ    (165
আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী আর কতইনা উত্তম হত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর   
And of mankind are some who take (for worship) others besides Allâh as rivals (to Allâh). They love them as they love Allâh. But those who believe, love Allâh more (than anything else). If only, those who do wrong could see, when they will see the torment, that all power belongs to Allâh and that Allâh is Severe in punishment.   

إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُواْ مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ           (166
অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক  
When those who were followed, disown (declare themselves innocent of) those who followed (them), and they see the torment, then all their relations will be cut off from them.          

وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّؤُواْ مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ      (167
এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি এভাবেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না 
And those who followed will say: ”If only we had one more chance to return (to the worldly life), we would disown (declare ourselves as innocent from) them as they have disowned (declared themselves as innocent from) us.” Thus Allâh will show them their deeds as regrets for them. And they will never get out of the Fire .       
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلاَلاً طَيِّباً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ         (168
হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু
O mankind! Eat of that which is lawful and good on the earth, and follow not the footsteps of Shaitân (Satan). Verily, he is to you an open enemy.   
إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاء وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ        (169
সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না   
[Shaitân (Satan)] commands you only what is evil and Fahshâ (sinful), and that you should say against Allâh what you know not.

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللّهُ قَالُواْ بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لاَ يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلاَ يَهْتَدُونَ   (170
আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও     
When it is said to them: ”Follow what Allâh has sent down.” They say: ”Nay! We shall follow what we found our fathers following.” (Would they do that!) Even though their fathers did not understand anything nor were they guided?          

وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُواْ كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لاَ يَسْمَعُ إِلاَّ دُعَاء وَنِدَاء صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لاَ يَعْقِلُونَ           (171
বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না   
And the example of those who disbelieve, is as that of him who shouts to the (flock of sheep) that hears nothing but calls and cries. (They are) deaf, dumb and blind. So they do not understand.         

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُواْ لِلّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ  (172
হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর  
O you who believe (in the Oneness of Allâh - Islâmic Monotheism)! Eat of the lawful things that We have provided you with, and be grateful to Allâh, if it is indeed He Whom you worship.  

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلاَ عَادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ      (173
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয় অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু 
He has forbidden you only the Maytatah (dead animals), and blood, and the flesh of swine, and that which is slaughtered as a scrifice for others than Allâh (or has been slaughtered for idols, etc., on which Allâh’s Name has not been mentioned while slaughtering). But if one is forced by necessity without wilful disobedience nor transgressing due limits, then there is no sin on him. Truly, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.         

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَـئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلاَّ النَّارَ وَلاَ يُكَلِّمُهُمُ اللّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ            (174
নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব
Verily, those who conceal what Allâh has sent down of the Book, and purchase a small gain therewith (of worldly things), they eat into their bellies nothing but fire. Allâh will not speak to them on the Day of Resurrection, nor purify them, and theirs will be a painful torment.     

أُولَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الضَّلاَلَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ   (175
এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী   
Those are they who have purchased error at the price of Guidance, and torment at the price of Forgiveness. So how bold they are (for evil deeds which will push them) to the Fire.       

ذَلِكَ بِأَنَّ اللّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ      (176
আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে     
That is because Allâh has sent down the Book (the Qur’ân) in truth. And verily, those who disputed as regards the Book are far away in opposition.       

لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَـكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّآئِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُواْ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاء والضَّرَّاء وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَـئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَـئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ     (177
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার  
It is not Al-Birr (piety, righteousness, and each and every act of obedience to Allâh, etc.) that you turn your faces towards east and (or) west (in prayers); but Al-Birr is (the quality of) the one who believes in Allâh, the Last Day, the Angels, the Book, the Prophets and gives his wealth, in spite of love for it, to the kinsfolk, to the orphans, and to Al-Masâkin (the poor), and to the wayfarer, and to those who ask, and to set slaves free, performs As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and gives the Zakât, and who fulfill their covenant when they make it, and who are As-Sâbirin (the patient ones, etc.) in extreme poverty and ailment (disease) and at the time of fighting (during the battles). Such are the people of the truth and they are Al­Muttaqûn (pious - see V.2:2).   

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالأُنثَى بِالأُنثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاء إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ        (178
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায় অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব  
O you who believe! Al-Qisâs (the Law of Equality in punishment) is prescribed for you in case of murder: the free for the free, the slave for the slave, and the female for the female. But if the killer is forgiven by the brother (or the relatives, etc.) of the killed against blood money, then adhering to it with fairness and payment of the blood money, to the heir should be made in fairness. This is an alleviation and a mercy from your Lord. So after this whoever transgresses the limits (i.e. kills the killer after taking the blood money), he shall have a painful torment.

وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاْ أُولِيْ الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ          (179
হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার      
And there is (a saving of) life for you in Al-Qisâs (the Law of Equality in punishment), O men of understanding, that you may become Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2).  

كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ      (180
তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সবকিছু শোনেন ও জানেন    
It is prescribed for you, when death approaches any of you, if he leaves wealth, that he make a bequest to parents and next of kin, according to reasonable manners. (This is) a duty upon Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2).      
           
فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ   (181
যদি কেউ ওসীয়ত শোনার পর তাতে কোন রকম পরিবর্তন সাধন করে, তবে যারা পরিবর্তন করে তাদের উপর এর পাপ পতিত হবে     
Then whoever changes the bequest after hearing it, the sin shall be on those who make the change. Truly, Allâh is All-Hearer, All-Knower.        

فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (182
যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু   
But he who fears from a testator some unjust act or wrong-doing, and thereupon he makes peace between the parties concerned, there shall be no sin on him. Certainly, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful. 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ   (183
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার   
O you who believe! Observing As-Saum (the fasting) is prescribed for you as it was prescribed for those before you, that you may become Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2).

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ  (184
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয় আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার    
[Observing Saum (fasts)] for a fixed number of days, but if any of you is ill or on a journey, the same number (should be made up) from other days. And as for those who can fast with difficulty, (e.g. an old man, etc.), they have (a choice either to fast or) to feed a Miskîn (poor person) (for every day). But whoever does good of his own accord, it is better for him. And that you fast, it is better for you if only you know.
             
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ   (185
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর       
The month of Ramadân in which was revealed the Qur’ân, a guidance for mankind and clear proofs for the guidance and the criterion (between right and wrong). So whoever of you sights (the crescent on the first night of) the month (of Ramadân i.e. is present at his home), he must observe Saum (fasts) that month, and whoever is ill or on a journey, the same number [of days which one did not observe Saum (fasts) must be made up] from other days. Allâh intends for you ease, and He does not want to make things difficult for you. (He wants that you) must complete the same number (of days), and that you must magnify Allâh [i.e. to say Takbîr (Allâhu-Akbar; Allâh is the Most Great) on seeing the crescent of the months of Ramadân and Shawwâl] for having guided you so that you may be grateful to Him.   

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لِي وَلْيُؤْمِنُواْ بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ       (186
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে And when My slaves ask you (O Muhammad SAW) concerning Me, then (answer them), I am indeed near (to them by My Knowledge). I respond to the invocations of the supplicant when he calls on Me (without any mediator or intercessor). So let them obey Me and believe in Me, so that they may be led aright.          

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُواْ مَا كَتَبَ اللّهُ لَكُمْ وَكُلُواْ وَاشْرَبُواْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّواْ الصِّيَامَ إِلَى الَّليْلِ وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ      (187
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায় অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা অতএব, এর কাছেও যেও না এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে 
It is made lawful for you to have sexual relations with your wives on the night of As-Saum (the fasts). They are Lîbas [i.e. body cover, or screen, or Sakan, (i.e. you enjoy the pleasure of living with her - as in Verse 7:189) Tafsir At-Tabarî], for you and you are the same for them. Allâh knows that you used to deceive yourselves, so He turned to you (accepted your repentance) and forgave you. So now have sexual relations with them and seek that which Allâh has ordained for you (offspring), and eat and drink until the white thread (light) of dawn appears to you distinct from the black thread (darkness of night), then complete your Saum (fast) till the nightfall. And do not have sexual relations with them (your wives) while you are in I’tikâf (i.e. confining oneself in a mosque for prayers and invocations leaving the worldly activities) in the mosques. These are the limits (set) by Allâh, so approach them not. Thus does Allâh make clear His Ayât (proofs, evidences, lessons, signs, revelations, verses, laws, legal and illegal things, Allâh’s set limits, orders, etc.) to mankind that they may become Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2).     

وَلاَ تَأْكُلُواْ أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُواْ بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُواْ فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ         (188
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না 
And eat up not one another’s property unjustly (in any illegal way e.g. stealing, robbing, deceiving, etc.), nor give bribery to the rulers (judges before presenting your cases) that you may knowingly eat up a part of the property of others sinfully.           

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوْاْ الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَـكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُواْ الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا وَاتَّقُواْ اللّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ   (189
তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার      
They ask you (O Muhammad SAW) about the new moons. Say: These are signs to mark fixed periods of time for mankind and for the pilgrimage. It is not Al-Birr (piety, righteousness, etc.) that you enter the houses from the back but Al-Birr (is the quality of the one) who fears Allâh. So enter houses through their proper doors, and fear Allâh that you may be successful.   

وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُواْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبِّ الْمُعْتَدِينَ           (190
আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না    
And fight in the Way of Allâh those who fight you, but transgress not the limits. Truly, Allâh likes not the transgressors. [This Verse is the first one that was revealed in connection with Jihâd, but it was supplemented by another (V.9:36)].      

وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ وَلاَ تُقَاتِلُوهُمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ كَذَلِكَ جَزَاء الْكَافِرِينَ      (191
আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে তাহলে তাদেরকে হত্যা কর এই হল কাফেরদের শাস্তি     
And kill them wherever you find them, and turn them out from where they have turned you out. And Al-Fitnah is worse than killing. And fight not with them at Al-Masjid-al-Harâm (the sanctuary at Makkah), unless they (first) fight you there. But if they attack you, then kill them. Such is the recompense of the disbelievers.

فَإِنِ انتَهَوْاْ فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ           (192
আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু
But if they cease, then Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.        

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلّهِ فَإِنِ انتَهَواْ فَلاَ عُدْوَانَ إِلاَّ عَلَى الظَّالِمِينَ         (193
আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)   
And fight them until there is no more Fitnah (disbelief and worshipping of others along with Allâh) and (all and every kind of) worship is for Allâh (Alone). But if they cease, let there be no transgression except against Az-Zâlimûn (the polytheists, and wrong-doers, etc.)      

الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُواْ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ (194
সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা রয়েছে বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর জবর দস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন   The sacred month is for the sacred month, and for the prohibited things, there is the Law of Equality (Qisâs). Then whoever transgresses the prohibition against you, you transgress likewise against him. And fear Allâh, and know that Allâh is with Al-Muttaqûn (the pious - see V.2:2) .    

وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوَاْ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ           (195
আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন   
And spend in the Cause of Allâh (i.e. Jihâd of all kinds, etc.) and do not throw yourselves into destruction (by not spending your wealth in the Cause of Allâh), and do good. Truly, Allâh loves Al-Muhsinûn (the good-doers).    

وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلاَ تَحْلِقُواْ رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ           (196
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন
And perform properly (i.e. all the ceremonies according to the ways of Prophet Muhammad SAW), the Hajj and ’Umrah (i.e. the pilgrimage to Makkah) for Allâh. But if you are prevented (from completing them), sacrifice a Hady (animal, i.e. a sheep, a cow, or a camel, etc.) such as you can afford, and do not shave your heads until the Hady reaches the place of sacrifice. And whosoever of you is ill or has an ailment in his scalp (necessitating shaving), he must pay a Fidyah (ransom) of either observing Saum (fasts) (three days) or giving Sadaqah (charity - feeding six poor persons) or offering sacrifice (one sheep). Then if you are in safety and whosoever performs the ’Umrah in the months of Hajj, before (performing) the Hajj, (i.e. Hajj-at-Tamattu’ and Al-Qirân), he must slaughter a Hady such as he can afford, but if he cannot afford it, he should observe Saum (fasts) three days during the Hajj and seven days after his return (to his home), making ten days in all. This is for him whose family is not present at Al-Masjid-al-Harâm (i.e. non-resident of Makkah). And fear Allâh much and know that Allâh is Severe in punishment.[]        

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللّهُ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ         (197
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয় না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয় আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয় আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই
The Hajj (pilgrimage) is (in) the well-known (lunar year) months (i.e. the 10th month, the 11th month and the first ten days of the 12th month of the Islâmic calendar, i.e. two months and ten days). So whosoever intends to perform Hajj therein by assuming Ihrâm), then he should not have sexual relations (with his wife), nor commit sin, nor dispute unjustly during the Hajj. And whatever good you do, (be sure) Allâh knows it. And take a provision (with you) for the journey, but the best provision is At-Taqwa (piety, righteousness, etc.). So fear Me, O men of understanding!           

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُواْ فَضْلاً مِّن رَّبِّكُمْ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُواْ اللّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّآلِّينَ  (198
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ 
There is no sin on you if you seek the Bounty of your Lord (during pilgrimage by trading, etc.). Then when you leave ’Arafât, remember Allâh (by glorifying His Praises, i.e. prayers and invocations, etc.) at the Mash’ar-il-Harâm. And remember Him (by invoking Allâh for all good, etc.) as He has guided you, and verily, you were, before, of those who were astray.          

ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُواْ اللّهَ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ  (199
অতঃপর তওয়াফের জন্যে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুনাময়  
Then depart from the place whence all the people depart and ask Allâh for His Forgiveness. Truly, Allâh is Oft-Forgiving, Most-Merciful.     

فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُواْ اللّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ   (200
আর অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই    
So when you have accomplished your Manasik [(i.e. Ihrâm, Tawâf of the Ka’bah and As-Safâ and Al-Marwah), stay at ’Arafât, Muzdalifah and Mina, Ramy of Jamarât, (stoning of the specified pillars in Mina) slaughtering of Hady (animal, etc.)]. Remember Allâh as you remember your forefathers or with a far more remembrance. But of mankind there are some who say: ”Our Lord! Give us (Your Bounties) in this world!” and for such there will be no portion in the Hereafter. 

وِمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ     (201
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে-হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর   
And of them there are some who say: ”Our Lord! Give us in this world that which is good and in the Hereafter that which is good, and save us from the torment of the Fire!”   

أُولَـئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُواْ وَاللّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ            (202
এদেরই জন্য অংশ রয়েছে নিজেদের উপার্জিত সম্পদের আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী 
For them there will be alloted a share for what they have earned. And Allâh is Swift at reckoning.           

وَاذْكُرُواْ اللّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ        (203
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে     
And remember Allâh during the appointed Days. But whosoever hastens to leave in two days, there is no sin on him and whosoever stays on, there is no sin on him, if his aim is to do good and obey Allâh (fear Him), and know that you will surely be gathered unto Him.           

وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللّهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ أَلَدُّ الْخِصَامِ   (204
আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক
And of mankind there is he whose speech may please you (O Muhammad SAW), in this worldly life, and he calls Allâh to witness as to that which is in his heart, yet he is the most quarrelsome of the opponents. 

وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيِهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللّهُ لاَ يُحِبُّ الفَسَادَ          (205
যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না  
And when he turns away (from you ”O Muhammad SAW ”), his effort in the land is to make mischief therein and to destroy the crops and the cattle, and Allâh likes not mischief.         

وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ       (206
আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে সুতরাং তার জন্যে দোযখই যথেষ্ট আর নিঃসন্দেহে তা হলো নিকৃষ্টতর ঠিকানা   
And when it is said to him, ”Fear Allâh”, he is led by arrogance to (more) crime. So enough for him is Hell, and worst indeed is that place to rest!      

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاء مَرْضَاتِ اللّهِ وَاللّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ  (207
আর মানুষের মাঝে এক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজেদের জানের বাজি রাখে আল্লাহ হলেন তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান   
And of mankind is he who would sell himself, seeking the Pleasure of Allâh. And Allâh is full of Kindness to (His) slaves. 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ      (208
হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু 
O you who believe! Enter perfectly in Islâm (by obeying all the rules and regulations of the Islâmic religion) and follow not the footsteps of Shaitân (Satan). Verily! He is to you a plain enemy.     

فَإِن زَلَلْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا جَاءتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ        (209
অতঃপর তোমাদের মাঝে পরিস্কার নির্দেশ এসে গেছে বলে জানার পরেও যদি তোমরা পদস্খলিত হও, তাহলে নিশ্চিত জেনে রেখো, আল্লাহ, পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ 
Then if you slide back after the clear signs (Prophet Muhammad SAW and this Qur’ân, and Islâm) have come to you, then know that Allâh is All-Mighty, All-Wise. 

هَلْ يَنظُرُونَ إِلاَّ أَن يَأْتِيَهُمُ اللّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالْمَلآئِكَةُ وَقُضِيَ الأَمْرُ وَإِلَى اللّهِ تُرْجَعُ الأمُورُ     (210
তারা কি সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে যে, মেঘের আড়ালে তাদের সামনে আসবেন আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ ? আর তাতেই সব মীমাংসা হয়ে যাবে বস্তুতঃ সবকার্যকলাপই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছবে
Do they then wait for anything other than that Allâh should come to them in the shadows of the clouds and the angels? (Then) the case would be already judged. And to Allâh return all matters (for decision).  

سَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَمْ آتَيْنَاهُم مِّنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللّهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءتْهُ فَإِنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ   (211
বনী ইসরাঈলদিগকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে আমি কত স্পষ্ট নির্দশনাবলী দান করেছি আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন
Ask the Children of Israel how many clear Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) We gave them. And whoever changes Allâh’s Favour after it had come to him, [e.g. renounces the Religion of Allâh (Islâm) and accepts Kufr (disbelief),] then surely, Allâh is Severe in punishment.   

زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ اتَّقَواْ فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ            (212
পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন
Beautified is the life of this world for those who disbelieve, and they mock at those who believe. But those who obey Allâh’s Orders and keep away from what He has forbidden, will be above them on the Day of Resurrection. And Allâh gives (of His Bounty, Blessings, Favours, Honours, etc. on the Day of Resurrection) to whom He wills without limit. 

كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُواْ فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلاَّ الَّذِينَ أُوتُوهُ مِن بَعْدِ مَا جَاءتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللّهُ الَّذِينَ آمَنُواْ لِمَا اخْتَلَفُواْ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللّهُ يَهْدِي مَن يَشَاء إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ            (213
সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল অতঃপর আল্লাহ তাআলা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকরী হিসাবে আর তাঁদের সাথে অবর্তীণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন বস্তুতঃ কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক জেদবশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন     
Mankind were one community and Allâh sent Prophets with glad tidings and warnings, and with them He sent the Scripture in truth to judge between people in matters wherein they differed. And only those to whom (the Scripture) was given differed concerning it after clear proofs had come unto them through hatred, one to another. Then Allâh by His Leave guided those who believed to the truth of that wherein they differed. And Allâh guides whom He wills to a Straight Path.          

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُواْ الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْاْ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاء وَالضَّرَّاء وَزُلْزِلُواْ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللّهِ قَرِيبٌ     (214
তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী
Or think you that you will enter Paradise without such (trials) as came to those who passed away before you? They were afflicted with severe poverty and ailments and were so shaken that even the Messenger and those who believed along with him said, ”When (will come) the Help of Allâh?” Yes! Certainly, the Help of Allâh is near!  

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللّهَ بِهِ عَلِيمٌ             (215
তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও-যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা-মাতার জন্যে, আত্নীয়-আপনজনের জন্যে, এতীম-অনাথদের জন্যে, অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে   
They ask you (O Muhammad SAW) what they should spend. Say: Whatever you spend of good must be for parents and kindred and orphans and Al­Masâkin (the poor) and the wayfarers, and whatever you do of good deeds, truly, Allâh knows it well.   

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تُحِبُّواْ شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ            (216
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না  
Jihâd (holy fighting in Allâh’s Cause) is ordained for you (Muslims) though you dislike it, and it may be that you dislike a thing which is good for you and that you like a thing which is bad for you. Allâh knows but you do not know. 

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلاَ يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىَ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُواْ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَـئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ            (217
সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয় তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে আর তারাই হলো দোযখবাসী তাতে তারা চিরকাল বাস করবে      They ask you concerning fighting in the Sacred Months (i.e. 1st, 7th, 11th and 12th months of the Islâmic calendar). Say, ”Fighting therein is a great (transgression) but a greater (transgression) with Allâh is to prevent mankind from following the Way of Allâh, to disbelieve in Him, to prevent access to Al-Masjid-al-Harâm (at Makkah), and to drive out its inhabitants, and Al-Fitnah is worse than killing. And they will never cease fighting you until they turn you back from your religion (Islâmic Monotheism) if they can. And whosoever of you turns back from his religion and dies as a disbeliever, then his deeds will be lost in this life and in the Hereafter, and they will be the dwellers of the Fire. They will abide therein forever.”
             
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أُوْلَـئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللّهِ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ   (218
আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়  Verily, those who have believed, and those who have emigrated (for Allâh’s Religion) and have striven hard in the Way of Allâh, all these hope for Allâh’s Mercy. And Allâh is Oft-Forgiving, Most-Merciful.         

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبيِّنُ اللّهُ لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ  (219
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড় আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার They ask you (O Muhammad SAW) concerning alcoholic drink and gambling. Say: ”In them is a great sin, and (some) benefit for men, but the sin of them is greater than their benefit.” And they ask you what they ought to spend. Say: ”That which is beyond your needs.” Thus Allâh makes clear to you His Laws in order that you may give thought.”     

فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاَحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ وَلَوْ شَاء اللّهُ لأعْنَتَكُمْ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ      (220
দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম সংক্রান্ত হুকুম বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই  বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের উপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞ    In (to) this worldly life and in the Hereafter. And they ask you concerning orphans. Say: ”The best thing is to work honestly in their property, and if you mix your affairs with theirs, then they are your brothers. And Allâh knows him who means mischief (e.g. to swallow their property) from him who means good (e.g. to save their property). And if Allâh had wished, He could have put you into difficulties. Truly, Allâh is All-Mighty, All-Wise.”     

وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلاَ تُنكِحُواْ الْمُشِرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُواْ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُوْلَـئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللّهُ يَدْعُوَ إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ         (221
আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে       
And do not marry Al-Mushrikât (idolatresses, etc.) till they believe (worship Allâh Alone). And indeed a slave woman who believes is better than a (free) Mushrikah (idolatress, etc.), even though she pleases you. And give not (your daughters) in marriage to Al-Mushrikûn till they believe (in Allâh Alone) and verily, a believing slave is better than a (free) Mushrik (idolater, etc.), even though he pleases you. Those (Al-Mushrikûn) invite you to the Fire, but Allâh invites (you) to Paradise and Forgiveness by His Leave, and makes His Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) clear to mankind that they may remember. 

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاء فِي الْمَحِيضِ وَلاَ تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىَ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ   (222
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে বলে দাও, এটা অশুচি কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায় যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন   
They ask you concerning menstruation. Say: that is an Adha (a harmful thing for a husband to have a sexual intercourse with his wife while she is having her menses), therefore keep away from women during menses and go not unto them till they have purified (from menses and have taken a bath). And when they have purified themselves, then go in unto them as Allâh has ordained for you (go in unto them in any manner as long as it is in their vagina). Truly, Allâh loves those who turn unto Him in repentance and loves those who purify themselves (by taking a bath and cleaning and washing thoroughly their private parts, bodies, for their prayers, etc.).    

نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُواْ حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُمْ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّكُم مُّلاَقُوهُ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ        (223
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও
Your wives are a tilth for you, so go to your tilth (have sexual relations with your wives in any manner as long as it is in the vagina and not in the anus), when or how you will, and send (good deeds, or ask Allâh to bestow upon you pious offspring) before you for your ownselves. And fear Allâh, and know that you are to meet Him (in the Hereafter), and give good tidings to the believers (O Muhammad SAW).   

وَلاَ تَجْعَلُواْ اللّهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ أَن تَبَرُّواْ وَتَتَّقُواْ وَتُصْلِحُواْ بَيْنَ النَّاسِ وَاللّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ     (224
আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন  
And make not Allâh’s (Name) an excuse in your oaths against your doing good and acting piously, and making peace among mankind. And Allâh is All-Hearer, All-Knower (i.e. do not swear much and if you have sworn against doing something good then give an expiation for the oath and do good).   

لاَّ يُؤَاخِذُكُمُ اللّهُ بِاللَّغْوِ فِيَ أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ          (225
তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল    
Allâh will not call you to account for that which is unintentional in your oaths, but He will call you to account for that which your hearts have earned. And Allâh is Oft-Forgiving, Most-Forbearing.           
           
لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَآؤُوا فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ       226
যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবেনা বলে কসম খেয়ে বসে তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ রয়েছে অতঃপর যদি পারস্পরিক মিল-মিশ করে নেয়, তবে আল্লাহ ক্ষামাকারী দয়ালু  
Those who take an oath not to have sexual relation with their wives must wait four months, then if they return (change their idea in this period), verily, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.
             
وَإِنْ عَزَمُواْ الطَّلاَقَ فَإِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ  (227
আর যদি বর্জন করার সংকল্প করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী  
And if they decide upon divorce, then Allâh is All-Hearer, All-Knower.    

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوَءٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُواْ إِصْلاَحًا وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكُيمٌ        (228
আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয় আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ    
And divorced women shall wait (as regards their marriage) for three menstrual periods, and it is not lawful for them to conceal what Allâh has created in their wombs, if they believe in Allâh and the Last Day. And their husbands have the better right to take them back in that period, if they wish for reconciliation. And they (women) have rights (over their husbands as regards living expenses, etc.) similar (to those of their husbands) over them (as regards obedience and respect, etc.) to what is reasonable, but men have a degree (of responsibility) over them. And Allâh is All-Mighty, All-Wise.

الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُواْ مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلاَّ أَن يَخَافَا أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللّهِ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَعْتَدُوهَا وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللّهِ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ  (229
তালাকে-রাজঈ ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা কাজেই একে অতিক্রম করো না বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম   
The divorce is twice, after that, either you retain her on reasonable terms or release her with kindness. And it is not lawful for you (men) to take back (from your wives) any of your Mahr (bridal money given by the husband to his wife at the time of marriage) which you have given them, except when both parties fear that they would be unable to keep the limits ordained by Allâh (e.g. to deal with each other on a fair basis). Then if you fear that they would not be able to keep the limits ordained by Allâh, then there is no sin on either of them if she gives back (the Mahr or a part of it) for her Al-Khul’ (divorce). These are the limits ordained by Allâh, so do not transgress them. And whoever transgresses the limits ordained by Allâh, then such are the Zâlimûn (wrong-doers, etc.).

فَإِن طَلَّقَهَا فَلاَ تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىَ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِن طَلَّقَهَا فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ            (230
তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয় অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে আর এই হলো আল্লাহ কতৃêক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়   
And if he has divorced her (the third time), then she is not lawful unto him thereafter until she has married another husband. Then, if the other husband divorces her, it is no sin on both of them that they reunite, provided they feel that they can keep the limits ordained by Allâh. These are the limits of Allâh, which He makes plain for the people who have knowledge.

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النَّسَاء فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلاَ تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لَّتَعْتَدُواْ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلاَ تَتَّخِذُوَاْ آيَاتِ اللّهِ هُزُوًا وَاذْكُرُواْ نِعْمَتَ اللّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُمْ مِّنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (231
আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয় আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়     
And when you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, either take them back on reasonable basis or set them free on reasonable basis. But do not take them back to hurt them, and whoever does that, then he has wronged himself. And treat not the Verses (Laws) of Allâh as a jest, but remember Allâh’s Favours on you (i.e. Islâm), and that which He has sent down to you of the Book (i.e. the Qur’ân) and Al-Hikmah (the Prophet’s Sunnah - legal ways - Islâmic jurisprudence, etc.) whereby He instructs you. And fear Allâh, and know that Allâh is All-Aware of everything.
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاء فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْاْ بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ        (232
আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধাদান করো না এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে আল্লাহ ও কেয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না  
And when you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, do not prevent them from marrying their (former) husbands, if they mutually agree on reasonable basis. This (instruction) is an admonition for him among you who believes in Allâh and the Last Day. That is more virtuous and purer for you. Allâh knows and you know not.        

وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلاَدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ لاَ تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلاَّ وُسْعَهَا لاَ تُضَآرَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلاَ مَوْلُودٌ لَّهُ بِوَلَدِهِ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَلِكَ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالاً عَن تَرَاضٍ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُواْ أَوْلاَدَكُمْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّآ آتَيْتُم بِالْمَعْرُوفِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (233
আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ন দুবছর দুধ খাওয়াবে, যদি দুধ খাওয়াবার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায় আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ, পিতার উপর হলো সে সমস্ত নারীর খোর-পোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাউকে তার সামর্থাতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন করা হয় না আর মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না এবং যার সন্তান তাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না আর ওয়ারিসদের উপরও দায়িত্ব এই তারপর যদি পিতা-মাতা ইচ্ছা করে, তাহলে দুবছরের ভিতরেই নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শক্রমে দুধ ছাড়িয়ে দিতে পারে, তাতে তাদের কোন পাপ নেই, আর যদি তোমরা কোন ধাত্রীর দ্বারা নিজের সন্তানদেরকে দুধ খাওয়াতে চাও, তাহলে যদি তোমরা সাব্যস্তকৃত প্রচলিত বিনিময় দিয়ে দাও তাতেও কোন পাপ নেই আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ অত্যন্ত ভাল করেই দেখেন     
The mothers shall give suck to their children for two whole years, (that is) for those (parents) who desire to complete the term of suckling, but the father of the child shall bear the cost of the mother’s food and clothing on a reasonable basis. No person shall have a burden laid on him greater than he can bear. No mother shall be treated unfairly on account of her child, nor father on account of his child. And on the (father’s) heir is incumbent the like of that (which was incumbent on the father). If they both decide on weaning, by mutual consent, and after due consultation, there is no sin on them. And if you decide on a foster suckling-mother for your children, there is no sin on you, provided you pay (the mother) what you agreed (to give her) on reasonable basis. And fear Allâh and know that Allâh is All-Seer of what you do.
             
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ        (234
আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে     
And those of you who die and leave wives behind them, they (the wives) shall wait (as regards their marriage) for four months and ten days, then when they have fulfilled their term, there is no sin on you if they (the wives) dispose of themselves in a just and honourable manner (i.e. they can marry). And Allâh is Well-Acquainted with what you do.      

وَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاء أَوْ أَكْنَنتُمْ فِي أَنفُسِكُمْ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَـكِن لاَّ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلاَّ أَن تَقُولُواْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا وَلاَ تَعْزِمُواْ عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّىَ يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ          (235
আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল  
And there is no sin on you if you make a hint of betrothal or conceal it in yourself, Allâh knows that you will remember them, but do not make a promise of contract with them in secret except that you speak an honourable saying according to the Islâmic law (e.g. you can say to her, ”If one finds a wife like you, he will be happy”). And do not consummate the marriage until the term prescribed is fulfilled. And know that Allâh knows what is in your minds, so fear Him. And know that Allâh is Oft-Forgiving, Most Forbearing.        

لاَّ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ النِّسَاء مَا لَمْ تَمَسُّوهُنُّ أَوْ تَفْرِضُواْ لَهُنَّ فَرِيضَةً وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدْرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ            (236
স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব     
There is no sin on you, if you divorce women while yet you have not touched (had sexual relation with) them, nor appointed unto them their Mahr (bridal money given by the husband to his wife at the time of marriage). But bestow on them ( a suitable gift), the rich according to his means, and the poor according to his means, a gift of reasonable amount is a duty on the doers of good.